ছবি : সংগৃহীত
আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। গতকাল সোমবার (২ মার্চ) পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই দাবি জানান। তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যার সময় নীরব ভূমিকা পালন এবং পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন। ফলে তিনি আর এই পদে থাকার যোগ্য নন।
সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সংবিধানের ৫২নং অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা সম্ভব। এজন্য সংসদের দুই–তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানিয়েছেন, জোটের শরিকরা এই প্রস্তাব উত্থাপনের বিষয়ে ইতিবাচক। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, দলীয় ফোরামে আলোচনার মাধ্যমে জনস্বার্থ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রেখে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সরকারি দল বিএনপি এই প্রস্তাবে সায় না দিলে অভিশংসন কার্যকর করা কঠিন হবে।
এদিকে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন নাটকীয়তা। জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখতে রাষ্ট্রপতিকে সংসদে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিই উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাজপথ থেকে সংসদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির অপসারণের এই দাবি এবং আইনি বিতর্কের রেশ ধরে আসন্ন সংসদ অধিবেশন অত্যন্ত উত্তপ্ত হতে পারে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 













