ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শাহজালাল বিমানবন্দরে শুল্ক গোয়েন্দাদের বড় মাদক উদ্ধার অভিযান

পেটে ৮০ কোকেনের ক্যাপসুলসহ শাহজালাল বিমানবন্দরে তানজানিয়ার নাগরিক আটক

কোকেনসহ আটককৃত ব্যক্তি। ছবি: কালের কণ্ঠ

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিনব উপায়ে মাদক চোরাচালানের এক বড় চালান ধরা পড়েছে। নিজের পাকস্থলীতে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে ৮০টি কোকেনের ক্যাপসুল নিয়ে আসার অপরাধে আবুলনাসের বাকারী (ABULNASEER BAKARI) নামের এক তানজানিয়ার নাগরিককে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আজ ২০ মে, বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক এই মাদক চোরাকারবারিকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আজ দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ‘ET680’ ফ্লাইটে চড়ে আফ্রিকা থেকে ঢাকায় পৌঁছান ওই তানজানিয়ান নাগরিক। তাদের কাছে আগে থেকেই একটি গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে, আফ্রিকা থেকে আসা এক যাত্রী নিজের পেটের ভেতরে করে মাদকের একটি বড় চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। এই গোপন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে সকাল থেকেই বিমানবন্দরের ট্রানজিট ও গ্রিন চ্যানেল এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি চরমভাবে জোরদার করা হয়।

 

 

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি অবতরণের পর গোপন তথ্যের বিবরণ অনুযায়ী ওই আফ্রিকান যাত্রীকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়। পরবর্তীতে তাকে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় কাস্টমস গোয়েন্দারা চ্যালেঞ্জ করেন এবং আটক করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যাত্রী পেটে মাদক থাকার কথা অস্বীকার করলেও তার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ও আচরণে সন্দেহ আরও তীব্র হয়। এরপর শুল্ক গোয়েন্দারা তাকে দ্রুত বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এক্স-রে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। এক্স-রে করার পর চিকিৎসকরা তার পাকস্থলীতে বিশেষ উপায়ে রাখা ডিম্বাকৃতির ৮০টি কোকেনের ক্যাপসুলের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।

 

 

আটককৃত আবুলনাসের বাকারীর পাসপোর্ট নম্বর (TAE867759)। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে পাকস্থলীতে মাদকের বড় চালানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আটককৃত এই বিদেশি যাত্রীকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং পেট থেকে কোকেনের ক্যাপসুলগুলো নিরাপদে বের করার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরস্থ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশে এই মাদকের আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

শাহজালাল বিমানবন্দরে শুল্ক গোয়েন্দাদের বড় মাদক উদ্ধার অভিযান

পেটে ৮০ কোকেনের ক্যাপসুলসহ শাহজালাল বিমানবন্দরে তানজানিয়ার নাগরিক আটক

Update Time : ১০:৪৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

কোকেনসহ আটককৃত ব্যক্তি। ছবি: কালের কণ্ঠ

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিনব উপায়ে মাদক চোরাচালানের এক বড় চালান ধরা পড়েছে। নিজের পাকস্থলীতে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে ৮০টি কোকেনের ক্যাপসুল নিয়ে আসার অপরাধে আবুলনাসের বাকারী (ABULNASEER BAKARI) নামের এক তানজানিয়ার নাগরিককে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আজ ২০ মে, বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক এই মাদক চোরাকারবারিকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আজ দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ‘ET680’ ফ্লাইটে চড়ে আফ্রিকা থেকে ঢাকায় পৌঁছান ওই তানজানিয়ান নাগরিক। তাদের কাছে আগে থেকেই একটি গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে, আফ্রিকা থেকে আসা এক যাত্রী নিজের পেটের ভেতরে করে মাদকের একটি বড় চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। এই গোপন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে সকাল থেকেই বিমানবন্দরের ট্রানজিট ও গ্রিন চ্যানেল এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি চরমভাবে জোরদার করা হয়।

 

 

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি অবতরণের পর গোপন তথ্যের বিবরণ অনুযায়ী ওই আফ্রিকান যাত্রীকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়। পরবর্তীতে তাকে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় কাস্টমস গোয়েন্দারা চ্যালেঞ্জ করেন এবং আটক করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যাত্রী পেটে মাদক থাকার কথা অস্বীকার করলেও তার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ও আচরণে সন্দেহ আরও তীব্র হয়। এরপর শুল্ক গোয়েন্দারা তাকে দ্রুত বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এক্স-রে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। এক্স-রে করার পর চিকিৎসকরা তার পাকস্থলীতে বিশেষ উপায়ে রাখা ডিম্বাকৃতির ৮০টি কোকেনের ক্যাপসুলের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন।

 

 

আটককৃত আবুলনাসের বাকারীর পাসপোর্ট নম্বর (TAE867759)। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে পাকস্থলীতে মাদকের বড় চালানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আটককৃত এই বিদেশি যাত্রীকে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং পেট থেকে কোকেনের ক্যাপসুলগুলো নিরাপদে বের করার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরস্থ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশে এই মাদকের আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।