ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ট্রাম্পের সই করা ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের আওতায় নথি উন্মোচন; আড়ালে থাকা ক্ষমতাধরদের নাম আসার অপেক্ষায় বিশ্ব

এপস্টেইন ফাইল: ‘যৌন শিকারি’র অন্ধকার সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত নথি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

নিজের অপরাধের ধরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জেফ্রি এপস্টেইন একদা বলেছিলেন, “আমি কোনও যৌন শিকারি নই, তবে আমি একজন ‘অপরাধী’।” ২০১১ সালে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অপরাধকে রুটি চুরির মতো লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরও থেমে থাকেনি তাঁর অপরাধের ভয়াবহতা নিয়ে তদন্ত। দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে গত ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্ত নথির পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘোষণা করেছে।

 

২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি উচ্চ-সুরক্ষিত কারাগারে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় এপস্টেইনের। সে সময় তিনি জামিনবিহীন অবস্থায় যৌন পাচারের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। এর আগে এক দশকেরও বেশি সময় আগে অপ্রাপ্তবয়স্কের যৌন শোষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ ছিল, তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাতে তুলে দিতেন। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন এই বিতর্কিত ব্যবসায়ী।

 

এপস্টেইনের সঙ্গে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও তারকার সংশ্লিষ্টতার খবর সবসময়ই আড়ালে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুমোদিত হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আইনে স্বাক্ষর করার পর বিচার বিভাগকে ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও প্রথম দফায় কিছু নথি প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু বেশিরভাগই আড়ালে রয়ে যায়।

 

৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ প্রকাশিত নতুন নথিকে ‘অত্যন্ত বিস্তৃত পরিসরে নথি শনাক্ত ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার সমাপ্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। এর মাধ্যমে এপস্টেইনের সেই গোপন নথির সিংহভাগই এখন জনসমক্ষে আসার পথে। যদিও এই নথি প্রকাশের মাধ্যমে অনেক রাঘব-বোয়ালের নাম সামনে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে পুরো ফাইল প্রকাশ হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও জনমনে সংশয় রয়ে গেছে। এই নথিপত্র মার্কিন রাজনীতি ও বিশ্ব অঙ্গনের বহু উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্বের ক্যারিয়ার ও সম্মানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ট্রাম্পের সই করা ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের আওতায় নথি উন্মোচন; আড়ালে থাকা ক্ষমতাধরদের নাম আসার অপেক্ষায় বিশ্ব

এপস্টেইন ফাইল: ‘যৌন শিকারি’র অন্ধকার সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত নথি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

Update Time : ১০:১১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজের অপরাধের ধরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জেফ্রি এপস্টেইন একদা বলেছিলেন, “আমি কোনও যৌন শিকারি নই, তবে আমি একজন ‘অপরাধী’।” ২০১১ সালে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অপরাধকে রুটি চুরির মতো লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরও থেমে থাকেনি তাঁর অপরাধের ভয়াবহতা নিয়ে তদন্ত। দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে গত ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্ত নথির পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘোষণা করেছে।

 

২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের একটি উচ্চ-সুরক্ষিত কারাগারে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় এপস্টেইনের। সে সময় তিনি জামিনবিহীন অবস্থায় যৌন পাচারের অভিযোগে বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন। এর আগে এক দশকেরও বেশি সময় আগে অপ্রাপ্তবয়স্কের যৌন শোষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ ছিল, তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাতে তুলে দিতেন। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন এই বিতর্কিত ব্যবসায়ী।

 

এপস্টেইনের সঙ্গে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী ও তারকার সংশ্লিষ্টতার খবর সবসময়ই আড়ালে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ অনুমোদিত হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আইনে স্বাক্ষর করার পর বিচার বিভাগকে ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও প্রথম দফায় কিছু নথি প্রকাশিত হয়েছিল, কিন্তু বেশিরভাগই আড়ালে রয়ে যায়।

 

৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ প্রকাশিত নতুন নথিকে ‘অত্যন্ত বিস্তৃত পরিসরে নথি শনাক্ত ও পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার সমাপ্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। এর মাধ্যমে এপস্টেইনের সেই গোপন নথির সিংহভাগই এখন জনসমক্ষে আসার পথে। যদিও এই নথি প্রকাশের মাধ্যমে অনেক রাঘব-বোয়ালের নাম সামনে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে পুরো ফাইল প্রকাশ হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও জনমনে সংশয় রয়ে গেছে। এই নথিপত্র মার্কিন রাজনীতি ও বিশ্ব অঙ্গনের বহু উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্বের ক্যারিয়ার ও সম্মানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।