আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা–১৪ আসনের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভায় তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এমনকি তাদের দলের লোকজন নকল সিল বানাতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে নাম উল্লেখ না করে একটি রাজনৈতিক দলের অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “অতীতে আমরা দেখেছি, একটি দল মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের মানুষের বিপক্ষে ছিল। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও তারা জনগণকে ফেলে রেখে স্বৈরাচারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ইতিহাসের বিভিন্ন সন্ধিক্ষণে দেশের মানুষকে মাঝপথে ফেলে চলে যাওয়ার বহু উদাহরণ এই মহলের রয়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এই গোষ্ঠীটি বর্তমানে সাধারণ মানুষকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আপনাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। খেয়াল রাখবেন, কেউ যেন আপনাদের পবিত্র ভোটের অধিকারকে বাক্সবন্দি করতে না পারে কিংবা আপনাদের রায় ছিনতাই করতে না পারে। যারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায়, তাদের বিষয়ে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত দেড় দশকের লড়াই ও বহু ত্যাগের বিনিময়ে আজ কথা বলার এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে এসেছে।
জনসভার শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান দেশ পুনর্গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই নির্বাচন কেবল নেতা নির্বাচনের নয়, এটি দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন। অর্জিত অধিকারকে এখন দেশ পুনর্গঠনের কাজে লাগাতে হবে। জনগণের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে উপযুক্ত জবাব দিতে হবে।” মিরপুরের এই জনসভায় ঢাকা–১৪ আসনের দলীয় প্রার্থীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 













