ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকৃতির রুদ্ররূপে লণ্ডভণ্ড জনপদ: শোকের ছায়া দেশের ছয় জেলায়

দেশে কালবৈশাখীর তাণ্ডব ও বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

 

সারাদেশে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের ভয়াবহ তাণ্ডবে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় ৫ জন, সিরাজগঞ্জে ২ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন, জামালপুরে ২ জন, বগুড়ায় ১ জন এবং পঞ্চগড়ে ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বজ্রপাতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

 

গাইবান্ধায় শোকের মাতম:

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে গাইবান্ধা জেলায়। সেখানে বজ্রপাতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলেসহ ৩ কিশোর ও যুবক মারা যান। নিহতরা হলেন—ফুয়াদ (১৪), রাফি (১৫) ও মিজান (২০)। অন্যদিকে ফুলছড়ির যমুনার চরে ঘোড়া নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান মানিক হোসেন (২২) নামের এক যুবক। একই ঘটনায় তার ঘোড়াটিও প্রাণ হারায়। এছাড়া সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় নম্বার আলী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

 

উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলায় বিপর্যয়:

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ফসলি মাঠে কাজ করে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে সেলিনা আক্তার নামের এক গৃহবধূ এবং ইলিয়াস আলী নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে সকালে চা বাগানে পাতা তোলার সময় বজ্রপাতে সোহরাওয়ার্দী নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়; এ সময় আহত হন আরও দুইজন। বগুড়াতেও বজ্রাঘাতে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরের চিত্র:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জে বিকেলে মাঠে কাজ করার সময় পৃথক দুটি বজ্রপাতের ঘটনায় কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) ও হাসান আলী (২৪) প্রাণ হারান। অন্যদিকে জামালপুরে প্রকৃতির রোষে প্রাণ হারিয়েছেন এক গৃহবধূ ও এক কৃষক। মেলান্দহ উপজেলায় নিজ বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় বজ্রপাতে মর্জিনা বেগম (৪০) মারা যান এবং সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় মাঠ থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে বজ্রাঘাতে হাসমত আলী (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়।

 

 

প্রশাসন ও স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই মাঠে কাজ করছিলেন কিংবা দুর্যোগের সময় খোলা স্থানে অবস্থান করছিলেন। আবহাওয়া অফিস পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা দেশের বিভিন্ন স্থানে আবারও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

প্রকৃতির রুদ্ররূপে লণ্ডভণ্ড জনপদ: শোকের ছায়া দেশের ছয় জেলায়

দেশে কালবৈশাখীর তাণ্ডব ও বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু

Update Time : ০৮:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রতীকী ছবি

 

সারাদেশে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের ভয়াবহ তাণ্ডবে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় ৫ জন, সিরাজগঞ্জে ২ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ জন, জামালপুরে ২ জন, বগুড়ায় ১ জন এবং পঞ্চগড়ে ১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বজ্রপাতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

 

 

গাইবান্ধায় শোকের মাতম:

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে গাইবান্ধা জেলায়। সেখানে বজ্রপাতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলেসহ ৩ কিশোর ও যুবক মারা যান। নিহতরা হলেন—ফুয়াদ (১৪), রাফি (১৫) ও মিজান (২০)। অন্যদিকে ফুলছড়ির যমুনার চরে ঘোড়া নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান মানিক হোসেন (২২) নামের এক যুবক। একই ঘটনায় তার ঘোড়াটিও প্রাণ হারায়। এছাড়া সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় নম্বার আলী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

 

উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলায় বিপর্যয়:

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ফসলি মাঠে কাজ করে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে সেলিনা আক্তার নামের এক গৃহবধূ এবং ইলিয়াস আলী নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে সকালে চা বাগানে পাতা তোলার সময় বজ্রপাতে সোহরাওয়ার্দী নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়; এ সময় আহত হন আরও দুইজন। বগুড়াতেও বজ্রাঘাতে একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরের চিত্র:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জে বিকেলে মাঠে কাজ করার সময় পৃথক দুটি বজ্রপাতের ঘটনায় কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) ও হাসান আলী (২৪) প্রাণ হারান। অন্যদিকে জামালপুরে প্রকৃতির রোষে প্রাণ হারিয়েছেন এক গৃহবধূ ও এক কৃষক। মেলান্দহ উপজেলায় নিজ বাড়ির উঠানে রান্না করার সময় বজ্রপাতে মর্জিনা বেগম (৪০) মারা যান এবং সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় মাঠ থেকে গরু নিয়ে ফেরার পথে বজ্রাঘাতে হাসমত আলী (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়।

 

 

প্রশাসন ও স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই মাঠে কাজ করছিলেন কিংবা দুর্যোগের সময় খোলা স্থানে অবস্থান করছিলেন। আবহাওয়া অফিস পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা দেশের বিভিন্ন স্থানে আবারও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।