বসন্তের বিদায়লগ্নে এসে দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামী তিন দিন দেশের বিভিন্ন বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা আগামী কয়েকদিন দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী রোববার রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে সেদিন দেশের বাকি অংশে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির এই প্রবণতা পরের দিন অর্থাৎ সোমবার আরও বিস্তৃত হতে পারে। সোমবার রংপুর ছাড়াও রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার বৃষ্টির আওতা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এদিন রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে আবহওয়া মূলত শুষ্ক থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যা দেশের বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা যোগ করছে।
তাপমাত্রার বিষয়ে অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ শুক্রবার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ দেশের আকাশ প্রধানত শুষ্ক থাকবে। উপকূলীয় অঞ্চলে ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা দিলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে রোদের তীব্রতা বাড়তে পারে।
সাধারণত ফাল্গুনের এই সময়ে পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে এ ধরনের বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। কৃষকদের জন্য এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হতে পারে, বিশেষ করে যারা আম বা লিচুর মুকুলের পরিচর্যা করছেন। তবে বজ্রপাতের সময় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী তিন দিন আবহাওয়ার এই পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সতর্কতা জারি করা হতে পারে।
















