ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর এই রেকর্ডকৃত বক্তব্য প্রচার করা হয়। বক্তৃতায় শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘খুনি ফ্যাসিস্ট’, ‘অর্থপাচারকারী’ ও ‘ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের পরিবর্তন ছিল একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং বর্তমান সরকার বিদেশি স্বার্থে পরিচালিত একটি ‘পুতুল সরকার’।
সংবাদ সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বর্তমান বাংলাদেশকে ‘মৃত্যুকূপ ও মৃত্যুপুরী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইউনূসের নেতৃত্বে দেশ এখন নৈরাজ্য ও উগ্রপন্থি শক্তির দখলে এবং এখানে মানবাধিকার পদদলিত হচ্ছে। সংখ্যালঘু ও নারীদের ওপর সহিংসতা এবং গণপিটুনির মতো ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটতে দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, ড. ইউনূস দেশের ভূখণ্ড ও সম্পদ বিদেশের কাছে বিক্রি করে দিয়ে বাংলাদেশকে বহুজাতিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে শেখ হাসিনা দেশ বাঁচাতে ‘পাঁচ দফা’ দাবি পেশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউনূস সরকারকে সরিয়ে দ্রুত নির্বাচন দেওয়া, সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গত এক বছরের সব ঘটনার জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত। তিনি তাঁর সমর্থকদের ‘শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান’ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে হাসিনা নিজেকে গণতন্ত্রের রক্ষক দাবি করলেও, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধেই ১,৪০০ মানুষকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন এবং তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের আদালতের দৃষ্টিতে একজন পলাতক আসামি।














