ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ; সংবিধান সংস্কারে মুখোমুখি দুই পক্ষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু আজ

ছবি : সংগৃহীত

 

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক চড়াইউতরাই পেরিয়ে এক নতুন অভিযাত্রায় শামিল হলো বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য শুরু করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে সংসদের শুরুতেই এক অভিনব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে; এখনো স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়ায় স্পিকারের আসনটি শূন্য রেখেই অধিবেশন চলছে।

 

নতুন এই সংসদের প্রথম কার্যদিবসেই সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে স্পষ্ট মতাদর্শিক বিভাজন দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদীয় কমিটির আলাদা বৈঠকে সংসদীয় কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসাজুলাই সনদবাস্তবায়নের ধরন নিয়ে দুই পক্ষ দুই মেরুতে অবস্থান করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরানোট অব ডিসেন্টবা আপত্তি সহকারে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষপাতী। অর্থাৎ, সনদের সব দফার সাথে বর্তমান সরকার একমত নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে তারা নিজস্ব পর্যবেক্ষণ রাখতে চায়।

 

অন্যদিকে, বিরোধী দলে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি (নাসিরক্যাপসিস্ট পার্টি) কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তারা জনগণের সরাসরি ভোটে বা গণভোটে পাস হওয়া জুলাই সনদের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু বাস্তবায়ন দাবি করছে। দুই পক্ষের মধ্যে মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয়। এর মধ্যে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ, সংসদের উচ্চকক্ষ (Upper House) গঠন পদ্ধতি এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। বিরোধী দল মনে করে, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ছাড়া রাষ্ট্রের প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়।

 

সংসদ অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন এবং স্পিকার পদে কাদের নাম প্রস্তাব করা হবে- তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অধিবেশনের প্রথম কয়েক দিনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ এবং পরবর্তী আলোচনায় জুলাই সনদ নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা এই সংসদকে দীর্ঘকাল পর এক প্রাণবন্ত ও কার্যকর বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে সংসদের দিকে, জুলাই বিপ্লবের ফসল এই নতুন সংসদ জনগণের আকাঙ্ক্ষা কতটুকু পূরণ করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ; সংবিধান সংস্কারে মুখোমুখি দুই পক্ষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু আজ

Update Time : ১১:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক চড়াইউতরাই পেরিয়ে এক নতুন অভিযাত্রায় শামিল হলো বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য শুরু করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে সংসদের শুরুতেই এক অভিনব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে; এখনো স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়ায় স্পিকারের আসনটি শূন্য রেখেই অধিবেশন চলছে।

 

নতুন এই সংসদের প্রথম কার্যদিবসেই সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে স্পষ্ট মতাদর্শিক বিভাজন দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদীয় কমিটির আলাদা বৈঠকে সংসদীয় কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসাজুলাই সনদবাস্তবায়নের ধরন নিয়ে দুই পক্ষ দুই মেরুতে অবস্থান করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরানোট অব ডিসেন্টবা আপত্তি সহকারে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষপাতী। অর্থাৎ, সনদের সব দফার সাথে বর্তমান সরকার একমত নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে তারা নিজস্ব পর্যবেক্ষণ রাখতে চায়।

 

অন্যদিকে, বিরোধী দলে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি (নাসিরক্যাপসিস্ট পার্টি) কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তারা জনগণের সরাসরি ভোটে বা গণভোটে পাস হওয়া জুলাই সনদের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু বাস্তবায়ন দাবি করছে। দুই পক্ষের মধ্যে মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয়। এর মধ্যে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ, সংসদের উচ্চকক্ষ (Upper House) গঠন পদ্ধতি এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। বিরোধী দল মনে করে, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ছাড়া রাষ্ট্রের প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়।

 

সংসদ অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন এবং স্পিকার পদে কাদের নাম প্রস্তাব করা হবে- তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অধিবেশনের প্রথম কয়েক দিনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে এই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ এবং পরবর্তী আলোচনায় জুলাই সনদ নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা এই সংসদকে দীর্ঘকাল পর এক প্রাণবন্ত ও কার্যকর বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত করেছে। পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে সংসদের দিকে, জুলাই বিপ্লবের ফসল এই নতুন সংসদ জনগণের আকাঙ্ক্ষা কতটুকু পূরণ করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।