ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিরুধুনগরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত কারখানা; তদন্তে ৪টি বিশেষ দল

তামিলনাড়ুতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ১৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

 

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৯ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলার কাত্তানারপট্টি গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সময় কারখানার ভেতরে অসংখ্য শ্রমিক কাজ করছিলেন। আকস্মিক এই বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে পুরো কারখানা ভবনটি মাটির সাথে মিশে গিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এই ঘটনায় আরও অন্তত ৬ জন শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ ও আহত হয়েছেন।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কাত্তানারপট্টি গ্রামের ওই কারখানায় প্রতিদিনের মতো যখন আতশবাজি তৈরির কাজ চলছিল, তখন হঠাৎ করেই একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশেপাশের এলাকা। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে থাকা শ্রমিকদের বেরিয়ে আসার সুযোগ ছিল না। খবর পেয়েই বিরুধুনগর জেলা থেকে দমকল বাহিনীর বেশ কয়েকটি ইউনিট ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করে এবং আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। একইসাথে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই দুর্ঘটনায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তব্যে কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শ্রমিকদের জীবন সুরক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিরুধুনগর জেলা পুলিশ ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে। দোষীদের খুঁজে বের করতে এবং কারখানায় কোনো ধরণের বেআইনি রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তা যাচাই করতে চারটি পৃথক বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রাসায়নিক মিশ্রণের সময় ঘর্ষণ বা অন্য কোনো ত্রুটি থেকে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। উল্লেখ্য, বিরুধুনগর জেলা ভারতের আতশবাজি তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হলেও এখানে নিয়মিত বিরতিতে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, যা শ্রমিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

 

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

বিরুধুনগরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত কারখানা; তদন্তে ৪টি বিশেষ দল

তামিলনাড়ুতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ১৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

Update Time : ১০:৩৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৯ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলার কাত্তানারপট্টি গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সময় কারখানার ভেতরে অসংখ্য শ্রমিক কাজ করছিলেন। আকস্মিক এই বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে পুরো কারখানা ভবনটি মাটির সাথে মিশে গিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এই ঘটনায় আরও অন্তত ৬ জন শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ ও আহত হয়েছেন।

 

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, কাত্তানারপট্টি গ্রামের ওই কারখানায় প্রতিদিনের মতো যখন আতশবাজি তৈরির কাজ চলছিল, তখন হঠাৎ করেই একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশেপাশের এলাকা। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে থাকা শ্রমিকদের বেরিয়ে আসার সুযোগ ছিল না। খবর পেয়েই বিরুধুনগর জেলা থেকে দমকল বাহিনীর বেশ কয়েকটি ইউনিট ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করে এবং আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকদের মতে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। একইসাথে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই দুর্ঘটনায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তব্যে কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শ্রমিকদের জীবন সুরক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

 

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিরুধুনগর জেলা পুলিশ ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে। দোষীদের খুঁজে বের করতে এবং কারখানায় কোনো ধরণের বেআইনি রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তা যাচাই করতে চারটি পৃথক বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রাসায়নিক মিশ্রণের সময় ঘর্ষণ বা অন্য কোনো ত্রুটি থেকে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। উল্লেখ্য, বিরুধুনগর জেলা ভারতের আতশবাজি তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হলেও এখানে নিয়মিত বিরতিতে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, যা শ্রমিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

 

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।