ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাড়ে ৯ মণের অ্যালবিনো মহিষ দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়

ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর, কমলাপুর হাটে নজর কাড়ছে গোলাপি মহিষ ‘কিম জং উন’

সংগৃহীত ছবি

 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে পুরোদমে জমে উঠতে শুরু করেছে কেনাবেচা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। প্রতি বছরের মতো এবারও বড় আকৃতির গরু-মহিষের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী ও চতুর নামের পশুকে ঘিরে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়ছে তুমুল কৌতূহল। তবে এবারের হাটে সব আলোচনাকে ছাপিয়ে কমলাপুর বালুর মাঠের হাটে সবার নজর কেড়েছে এক বিরল গোলাপি বা অ্যালবিনো রঙের মহিষ— উত্তর কোরিয়ার নেতার নামানুসারে যার নাম রাখা হয়েছে ‘কিম জং উন’।

 

 

কিছুদিন আগেই নারায়ণগঞ্জে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের একটি বিরল অ্যালবিনো মহিষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঢাকার কোরবানির হাটে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই ‘কিম জং উন’। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ শুধু একনজর দেখতে ভিড় করছেন মহিষটির সামনে। অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, ফলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ছে মহিষটির বিভিন্ন ভিডিও।

 

 

ব্যতিক্রমধর্মী এই মহিষটির মালিক নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খামারি সোহান। তিনি জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে মহিষটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। বর্তমানে এটি রাজধানীর কমলাপুর বালুর মাঠে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারের উত্তর পাশে কোরবানির পশুর হাটে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। খামারি সোহান বলেন, “মহিষটিকে কোনো ধরনের স্টেরয়েড বা কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। নিয়মিত গোসল করানো, পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমেই বড় করা হয়েছে।” তিনি জানান, মহিষটির প্রধান খাদ্য ছিল কাঁচা ঘাস, খড়, ধানের তুষ, ভাঙা ভুট্টা ও গমের ভুসি।

 

 

খামারির দাবি, মহিষটির ওজন প্রায় সাড়ে নয় মণ। বিশাল গড়ন, রাজকীয় চাহনি এবং সাধারণ মহিষের মতো কালো না হয়ে সম্পূর্ণ সাদাটে-গোলাপি রঙের হওয়ার কারণেই এর নাম রাখা হয়েছে ‘কিম জং উন’। দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে খামারি জানান, মহিষটির প্রত্যাশিত মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। তবে সাড়ে ৪ লাখ টাকার কাছাকাছি ভালো দাম পেলেও তিনি এটি বিক্রি করতে রাজি আছেন।

 

 

কমলাপুর বালুর মাঠ, ব্রাদার্স ক্লাব সংলগ্ন এলাকা, উটের খামার এলাকা, কালভার্ট রোড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনের অংশজুড়ে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আনা পশুতে হাট ভরে উঠেছে। বাজারে তিন লাখ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত দামের মাঝারি ও বড় পশু মিলছে। যদিও এখনও পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা, তবুও দর্শনার্থীদের কৌতূহলে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো হাট এলাকা। চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী ইদ্রিস ব্যাপারী বলেন, “এখন মানুষ মূলত হাট ঘুরে দেখছেন ও দাম যাচাই করছেন। ঈদে ঢাকায় অনেকের পশু রাখার জায়গা থাকে না, তাই তারা শেষ মুহূর্তেই গরু কেনেন। ফলে ঈদের এক-দুই দিন আগে থেকেই আসল বেচাকেনা শুরু হবে।”

 

 

এর আগে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার একটি খামারে ব্যতিক্রমী অ্যালবিনো মহিষের নাম রাখা হয়েছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। গোলাপি রঙ ও আলাদা গড়নের কারণে সেটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। এদিকে পিরোজপুরেও কোরবানির বাজার মাতাতে প্রস্তুত করা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ ও ‘লালু’ নামের দুটি বিশাল আকৃতির গরু। খামারিরা জানান, পশুর ভিন্নতা ও মজার নামকরণ ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেয়। কোরবানির হাটে এমন ব্যতিক্রমী পশু এখন শুধু কেনাবেচার বিষয় নয়, বরং বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার বড় অংশ হয়ে উঠেছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

সাড়ে ৯ মণের অ্যালবিনো মহিষ দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়

ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর, কমলাপুর হাটে নজর কাড়ছে গোলাপি মহিষ ‘কিম জং উন’

Update Time : ০১:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে পুরোদমে জমে উঠতে শুরু করেছে কেনাবেচা ও দর্শনার্থীদের ভিড়। প্রতি বছরের মতো এবারও বড় আকৃতির গরু-মহিষের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী ও চতুর নামের পশুকে ঘিরে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়ছে তুমুল কৌতূহল। তবে এবারের হাটে সব আলোচনাকে ছাপিয়ে কমলাপুর বালুর মাঠের হাটে সবার নজর কেড়েছে এক বিরল গোলাপি বা অ্যালবিনো রঙের মহিষ— উত্তর কোরিয়ার নেতার নামানুসারে যার নাম রাখা হয়েছে ‘কিম জং উন’।

 

 

কিছুদিন আগেই নারায়ণগঞ্জে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের একটি বিরল অ্যালবিনো মহিষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ঢাকার কোরবানির হাটে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই ‘কিম জং উন’। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ শুধু একনজর দেখতে ভিড় করছেন মহিষটির সামনে। অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, ফলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ছে মহিষটির বিভিন্ন ভিডিও।

 

 

ব্যতিক্রমধর্মী এই মহিষটির মালিক নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার খামারি সোহান। তিনি জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে মহিষটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। বর্তমানে এটি রাজধানীর কমলাপুর বালুর মাঠে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারের উত্তর পাশে কোরবানির পশুর হাটে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। খামারি সোহান বলেন, “মহিষটিকে কোনো ধরনের স্টেরয়েড বা কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। নিয়মিত গোসল করানো, পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমেই বড় করা হয়েছে।” তিনি জানান, মহিষটির প্রধান খাদ্য ছিল কাঁচা ঘাস, খড়, ধানের তুষ, ভাঙা ভুট্টা ও গমের ভুসি।

 

 

খামারির দাবি, মহিষটির ওজন প্রায় সাড়ে নয় মণ। বিশাল গড়ন, রাজকীয় চাহনি এবং সাধারণ মহিষের মতো কালো না হয়ে সম্পূর্ণ সাদাটে-গোলাপি রঙের হওয়ার কারণেই এর নাম রাখা হয়েছে ‘কিম জং উন’। দাম সম্পর্কে জানতে চাইলে খামারি জানান, মহিষটির প্রত্যাশিত মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। তবে সাড়ে ৪ লাখ টাকার কাছাকাছি ভালো দাম পেলেও তিনি এটি বিক্রি করতে রাজি আছেন।

 

 

কমলাপুর বালুর মাঠ, ব্রাদার্স ক্লাব সংলগ্ন এলাকা, উটের খামার এলাকা, কালভার্ট রোড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনের অংশজুড়ে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আনা পশুতে হাট ভরে উঠেছে। বাজারে তিন লাখ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত দামের মাঝারি ও বড় পশু মিলছে। যদিও এখনও পুরোপুরি জমে ওঠেনি বেচাকেনা, তবুও দর্শনার্থীদের কৌতূহলে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো হাট এলাকা। চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী ইদ্রিস ব্যাপারী বলেন, “এখন মানুষ মূলত হাট ঘুরে দেখছেন ও দাম যাচাই করছেন। ঈদে ঢাকায় অনেকের পশু রাখার জায়গা থাকে না, তাই তারা শেষ মুহূর্তেই গরু কেনেন। ফলে ঈদের এক-দুই দিন আগে থেকেই আসল বেচাকেনা শুরু হবে।”

 

 

এর আগে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার একটি খামারে ব্যতিক্রমী অ্যালবিনো মহিষের নাম রাখা হয়েছিল ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। গোলাপি রঙ ও আলাদা গড়নের কারণে সেটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। এদিকে পিরোজপুরেও কোরবানির বাজার মাতাতে প্রস্তুত করা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ ও ‘লালু’ নামের দুটি বিশাল আকৃতির গরু। খামারিরা জানান, পশুর ভিন্নতা ও মজার নামকরণ ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেয়। কোরবানির হাটে এমন ব্যতিক্রমী পশু এখন শুধু কেনাবেচার বিষয় নয়, বরং বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার বড় অংশ হয়ে উঠেছে।