ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে চালকরা, ড্রাম ভরে বিক্রি

ডেমরায় জ্বালানি তেলের হরিলুট, পাম্প থেকে খোলা বাজারে

সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানী ঢাকার ডেমরা এলাকায় পাম্প থেকে জ্বালানি তেল সরাসরি খোলা বাজারে চলে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যখন তেলের তীব্র সংকটে সাধারণ গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকরা তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাচ্ছেন না, তখন বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ড্রাম ভরে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে অবৈধ মজুদদারদের কাছে।

 

 

সরেজমিনে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত থেকে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত ডেমরার বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ গ্রাহকদের ‘তেল নেই’ বলে ফিরিয়ে দিলেও প্রভাবশালী চক্রের জন্য ড্রাম ও বোতলে তেল মজুদ রাখছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় অবস্থিত সিকদার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, একটি পিকআপে করে আনা বেশ কয়েকটি বিশাল ড্রামে তেল ভরা হচ্ছে। এ সময় দায়িত্বরত কর্মীরা অকপটে স্বীকার করেন যে, এই তেল খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, জহিরুল ইসলাম রনি মুন্সীর মালিকানাধীন সিকদার ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি পাম্প থেকে দিনরাত অবাধে খোলা বাজারে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি গাউছিয়ার মুন্সী ফিলিং স্টেশন, মদনপুরের আগমন ফিলিং স্টেশন এবং গাজীপুরের হংকং ফিলিং স্টেশনসহ তাদের মালিকানাধীন সকল প্রতিষ্ঠানে একই কায়দায় সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। সরকারি দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে এসব তেল হাটে-বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

 

 

খোলা বাজারের বিক্রেতা আব্দুর রহমান জানান, জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে এই অসাধু চক্রটি অধিক মুনাফার লোভে মজুদদারি করছে। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ না নিলে এই কৃত্রিম সংকট প্রকট আকার ধারণ করবে। যদিও অভিযুক্ত মালিক জহিরুল ইসলাম রনি মুন্সী দাবি করেছেন তারা নিয়ম মেনেই তেল বিক্রি করছেন, তবে ড্রামে তেল দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজের বিপরীতে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

 

 

এ বিষয়ে ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা তাইফুর রহমান বলেন, “জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদদারি বা সরকারি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে খোলা বাজারে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। যারা এই অসাধু চক্রের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে চালকরা, ড্রাম ভরে বিক্রি

ডেমরায় জ্বালানি তেলের হরিলুট, পাম্প থেকে খোলা বাজারে

Update Time : ০৯:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানী ঢাকার ডেমরা এলাকায় পাম্প থেকে জ্বালানি তেল সরাসরি খোলা বাজারে চলে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যখন তেলের তীব্র সংকটে সাধারণ গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকরা তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাচ্ছেন না, তখন বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ড্রাম ভরে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে অবৈধ মজুদদারদের কাছে।

 

 

সরেজমিনে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত থেকে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত ডেমরার বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ গ্রাহকদের ‘তেল নেই’ বলে ফিরিয়ে দিলেও প্রভাবশালী চক্রের জন্য ড্রাম ও বোতলে তেল মজুদ রাখছে পাম্প কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় অবস্থিত সিকদার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, একটি পিকআপে করে আনা বেশ কয়েকটি বিশাল ড্রামে তেল ভরা হচ্ছে। এ সময় দায়িত্বরত কর্মীরা অকপটে স্বীকার করেন যে, এই তেল খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে।

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, জহিরুল ইসলাম রনি মুন্সীর মালিকানাধীন সিকদার ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি পাম্প থেকে দিনরাত অবাধে খোলা বাজারে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি গাউছিয়ার মুন্সী ফিলিং স্টেশন, মদনপুরের আগমন ফিলিং স্টেশন এবং গাজীপুরের হংকং ফিলিং স্টেশনসহ তাদের মালিকানাধীন সকল প্রতিষ্ঠানে একই কায়দায় সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। সরকারি দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে এসব তেল হাটে-বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

 

 

খোলা বাজারের বিক্রেতা আব্দুর রহমান জানান, জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে এই অসাধু চক্রটি অধিক মুনাফার লোভে মজুদদারি করছে। দ্রুত আইনি পদক্ষেপ না নিলে এই কৃত্রিম সংকট প্রকট আকার ধারণ করবে। যদিও অভিযুক্ত মালিক জহিরুল ইসলাম রনি মুন্সী দাবি করেছেন তারা নিয়ম মেনেই তেল বিক্রি করছেন, তবে ড্রামে তেল দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজের বিপরীতে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

 

 

এ বিষয়ে ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা তাইফুর রহমান বলেন, “জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদদারি বা সরকারি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে খোলা বাজারে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। যারা এই অসাধু চক্রের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে।”