আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতে থাবা বসিয়েছে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে অন্তত পাঁচজন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে দুই জন স্বাস্থ্যকর্মীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভাইরাসের বিস্তার রোধে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতার অংশ হিসেবে প্রায় ১০০ জনকে এরই মধ্যে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ২০ দলের এই মেগা ইভেন্ট শুরুর প্রাক্কালে এমন স্বাস্থ্যঝুঁকি আয়োজক দেশ ও আইসিসি-র কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কলকাতার দুটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্স আক্রান্ত হওয়ার পর ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিপাহ ভাইরাস মূলত বাদুড়বাহিত একটি অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি, যার মৃত্যুহার বিভিন্ন সময়ে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে দেখা গেছে। যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো সমর্থক ও বিদেশি দলগুলোর ভারতে আসার কথা, ঠিক তখনই এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নতুন করে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রশ্ন তুলেছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে আগে থেকেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ভারতে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আইসিসি টাইগারদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আইসিসির এই একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (পিসিবি) টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিয়ে দোটানায় রয়েছে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভী জানিয়েছেন, শুক্রবার বা আগামী সোমবারের মধ্যে পাকিস্তান তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। একদিকে নিপাহ ভাইরাসের আতঙ্ক, অন্যদিকে বড় দলগুলোর অংশগ্রহন নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে এবারের বিশ্বকাপ।


























