সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক ও যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব অবশেষে আছড়ে পড়ল বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার যুক্তি দেখিয়ে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকেই ভোক্তা পর্যায়ে কার্যকর হয়েছে নতুন এই চড়া মূল্য। নতুন তালিকা অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল এখন ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার রাত থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাজধানীর তেজগাঁও, মহাখালী ও কল্যাণপুর এলাকার পাম্পগুলোতে দেখা যায় যানবাহনের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি।
অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ ‘তেল নেই’ বলে বিক্রি বন্ধ করে দিলে সাধারণ চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে দাম বৃদ্ধির বোঝা, অন্যদিকে তেলের কৃত্রিম সংকট—এই দুই সাঁড়াশী আক্রমণে দিশেহারা সাধারণ মানুষ।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী রুটের অধিকাংশ পাম্পে ডিজেল পাওয়া গেলেও অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ ছিল একেবারেই নগণ্য। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেয়ে ফিরে গেছেন অনেক বেসরকারি চাকুরিজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মন্ত্রণালয় থেকে পর্যাপ্ত মজুতের আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে পাম্প মালিকরা অধিক মুনাফার আশায় তেল আটকে রাখছেন। এই ভোগান্তি নিরসনে এবং বাজারের কৃত্রিম সংকট দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল পরিবহন খাতেই নয়, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। সেচ কাজ থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন—সব ক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এখন সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই, চড়া দাম দিয়েও কি পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার এই দীর্ঘ ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে? নাকি তেলের বাজার ঘিরে এই অস্থিরতা চলতেই থাকবে অনির্দিষ্টকাল।
















