নিহত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্রী শারমিন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার একটি বাসা থেকে শারমিন আক্তার নামে এক ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শারমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। রবিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে এই ঘটনা জানাজানি হলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পুলিশ একে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে ধারণা করছে।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার:
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শারমিন তার স্বামীর সঙ্গে ইসলামনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। রবিবার দুপুরে শারমিনের স্বামী বাসায় ফিরে দেখেন দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে কোনো এক সময়ে তিনি বাসায় ঢুকে মেঝেতে শারমিনকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শারমিনের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং ঘর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। স্বামীর চিৎকারে বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। পরে তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য:
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি জানতে পারে। এরপরই প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান। তিনি আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হাওলাদার জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যেহেতু মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল, তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া:
এদিকে শারমিনের মৃত্যুর খবর ক্যাম্পাসে পৌঁছালে তার সহপাঠী ও শিক্ষকদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাবি শিক্ষার্থীরা। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের না হলেও পুলিশ সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

















