ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে এক অভাবনীয় চিত্র দেখা গেছে আওয়ামী লীগের একসময়ের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের তুলনায় ‘না’ ভোট বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ-১ আসনে ১ লাখ ২৮ হাজার ২৯৮ জন ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে মাত্র ৫৪ হাজার ৭১৬টি। একইভাবে গোপালগঞ্জ-২ আসনে ১ লাখ ৭ হাজার ২৯০টি ‘না’ ভোটের বিপরীতে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৩৪ হাজার ৩০১টি। এমনকি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জ-৩ আসনেও ৯৩ হাজার ৩৬৮ জন ভোটার ‘না’ সূচক মত দিয়েছেন, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৩৩ হাজার ৪৯৮টি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা গোপালগঞ্জের এই ফলাফলকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। শুধু গোপালগঞ্জই নয়, তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের আরও অন্তত ছয়টি আসনে ‘না’ ভোটের জয়জয়কার দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকাগুলোর ভোটারদের একটি বড় অংশ বর্তমান সাংবিধানিক সংস্কার বা চার্টারের বিষয়ে তাদের দ্বিমত পোষণ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সারাদেশে সামগ্রিকভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, তবুও নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে এই ধরনের প্রত্যাখ্যান নতুন সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই আসনগুলোতে উন্নয়ন বা রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত দাবির প্রতিফলন এই ভোটে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, গোপালগঞ্জের মতো এলাকায় যেখানে কয়েক দশক ধরে একচেটিয়া রাজনৈতিক আধিপত্য ছিল, সেখানে জনগণের এই ভিন্নধর্মী রায় দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 















