একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর কিছু সময় আগেই একই কেন্দ্রে সপরিবারে ভোট দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশের শীর্ষ দুই নেতার ভোটদানকে কেন্দ্র করে গুলশান এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।
সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভোটদান শেষে ১০টা ৩৯ মিনিটে তিনি কেন্দ্র ত্যাগ করেন। এর আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে একই কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দীর্ঘ সময় পর দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের এভাবে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভোট দেওয়ার দৃশ্যটি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে আজ এই মহাযজ্ঞ চলছে (শেরপুর–৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত)। এবারের নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নারী প্রার্থীদের সংখ্যা এবার ৮৩ জন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা মোকাবিলায় মোতায়েন রয়েছে প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য।
রাজধানীর এই ভিভিআইপি কেন্দ্রে দুই নেতার ভোটদান শেষে ভোটারদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পায়। নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের শাসনভার কাদের হাতে যাচ্ছে, তা নির্ধারণে এখন ব্যালট বিপ্লবের অপেক্ষায় পুরো দেশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 























