সংগৃহীত ছবি
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন প্রক্রিয়া ও শোক সপ্তাহের মধ্যেই দেশজুড়ে ব্যাপক ও বিধ্বংসী বিমান হামলা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, সর্বশেষ দফায় চালানো এই অতর্কিত হামলায় ইরানের অভ্যন্তরে ও সমুদ্রসীমায় থাকা অন্তত ৮০টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়েছে। মার্কিন এই ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার পর ইরানের একাধিক উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপাঞ্চলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে, যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে।
সেন্টকমের সামরিক ইশতেহার অনুযায়ী, এবারের হামলায় মূলত ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System), কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় অত্যাধুনিক রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিশানা করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য করিডোরে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আকস্মিক হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তেহরানের সামরিক সক্ষমতা চিরতরে হ্রাসের লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত ইরানীয় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি সামরিক স্পিডবোট ও ছোট নৌকায় আকাশপথ থেকে সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের নৌবাহিনীর বেআইনি হামলার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবেই আজ রাতের এই ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানো হলো। বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ওই হামলাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ (Press TV) মাঠপর্যায়ের খবরের বরাতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরের প্রধান তেল টার্মিনাল সমৃদ্ধ খার্গ দ্বীপেও বড় ধরণের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দায় স্বীকার বা অস্বীকার কিছুই করেনি। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই জোড়া হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা হবে এবং মার্কিন ও আন্তর্জাতিক স্বার্থ রক্ষায় এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: আল জাজিরা















