ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের জমি দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

ক্ষমতায় এসেই শুভেন্দুর বড় পদক্ষেপ, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হুঁশিয়ারি

সংগৃহীত ছবি

 

বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত বিজেপি সরকার। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার মাত্র ১১ দিনের মাথায় প্রথম দফায় সীমান্তের ২৭ কিলোমিটারের জমি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্য দিয়ে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে বিএসএফ-এর কাছে জমি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য প্রশাসন।

 

 

ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দি ইকোনমিক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার বিকেলে রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’-এর সভাঘরে বিএসএফ-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে এই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র ও জোরদার করতে মূলত দুই ধরনের জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৯টি জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মোট ৩২ একর খাস জমি (সরকারি জমি) যেমন রয়েছে, তেমনি ৫টি সীমান্তবর্তী জেলা থেকে কেনা আরও ৪৩ একর ব্যক্তিগত জমিও রয়েছে। এই ২৭ কিলোমিটার সরকারি ও ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণের সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের মোট ৪ হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে এককভাবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই রয়েছে সর্বোচ্চ প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার। তবে ভৌগোলিক জটিলতা ও জমি সংকটের কারণে এখনও প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই।

 

 

ক্ষমতায় বসার পরপরই এই জমি হস্তান্তরের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ব্যাপারে আগের সরকারের এক ধরনের চরম অনীহা ছিল। ৬০০ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ৫৫৫ কিলোমিটার বেড়ার জন্য জমি আগের সরকার অনায়াসেই দিতে পারত, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তা দেওয়া হয়নি।”

 

 

একই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) অন্তর্ভুক্ত নন, তারা প্রত্যেকেই অনুপ্রবেশকারী। আজ থেকেই নতুন আইন কার্যকর হচ্ছে। এখন থেকে রাজ্য পুলিশ যেকোনো অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করে সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে এবং পরবর্তীতে তাদের এই দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য গত বছরই কেন্দ্রীয় সরকার থেকে এই রাজ্যকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু পূর্ববর্তী সরকার ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে তা কার্যকর করেনি, যা বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর করল।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের জমি দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

ক্ষমতায় এসেই শুভেন্দুর বড় পদক্ষেপ, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হুঁশিয়ারি

Update Time : ১০:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত বিজেপি সরকার। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার মাত্র ১১ দিনের মাথায় প্রথম দফায় সীমান্তের ২৭ কিলোমিটারের জমি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্য দিয়ে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে বিএসএফ-এর কাছে জমি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য প্রশাসন।

 

 

ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দি ইকোনমিক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার বিকেলে রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’-এর সভাঘরে বিএসএফ-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে এই জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র ও জোরদার করতে মূলত দুই ধরনের জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৯টি জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মোট ৩২ একর খাস জমি (সরকারি জমি) যেমন রয়েছে, তেমনি ৫টি সীমান্তবর্তী জেলা থেকে কেনা আরও ৪৩ একর ব্যক্তিগত জমিও রয়েছে। এই ২৭ কিলোমিটার সরকারি ও ব্যক্তিগত জমি অধিগ্রহণের সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের মোট ৪ হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার মধ্যে এককভাবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই রয়েছে সর্বোচ্চ প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার। তবে ভৌগোলিক জটিলতা ও জমি সংকটের কারণে এখনও প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই।

 

 

ক্ষমতায় বসার পরপরই এই জমি হস্তান্তরের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার ব্যাপারে আগের সরকারের এক ধরনের চরম অনীহা ছিল। ৬০০ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ৫৫৫ কিলোমিটার বেড়ার জন্য জমি আগের সরকার অনায়াসেই দিতে পারত, কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তা দেওয়া হয়নি।”

 

 

একই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) অন্তর্ভুক্ত নন, তারা প্রত্যেকেই অনুপ্রবেশকারী। আজ থেকেই নতুন আইন কার্যকর হচ্ছে। এখন থেকে রাজ্য পুলিশ যেকোনো অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করে সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে এবং পরবর্তীতে তাদের এই দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য গত বছরই কেন্দ্রীয় সরকার থেকে এই রাজ্যকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু পূর্ববর্তী সরকার ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে তা কার্যকর করেনি, যা বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর করল।