ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধুলো উড়িয়ে এখন রাষ্ট্র ক্ষমতার কেন্দ্রে ফেরার অপেক্ষায় বিএনপি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ঘোষিত ফলাফলে ২০৯টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে দলটি। তবে ফলাফল ঘোষণার পর এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন কে? সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার শপথ পড়িয়ে থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় শিরীন শারমিন চৌধুরী আত্মগোপনে এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় এক ধরণের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ২৯৭টি আসনে বিজয়ীদের নাম–ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম ও শেরপুরের তিনটি বাদে বাকি আসনগুলোর গেজেট একসঙ্গে প্রকাশ করা হবে। এবারের নির্বাচনে ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের বহিঃপ্রকাশ। সংবিধানের ১৪৮–এর ৩ ধারা অনুযায়ী, যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে অসমর্থ হন বা না থাকেন, তবে গেজেট প্রকাশের তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর চতুর্থ দিন থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিজেই নবনির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এ বিষয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের শপথ পড়ানোর কোনো আইনগত বা নৈতিক সুযোগ নেই। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি—যেমন প্রধান বিচারপতিও শপথ পড়াতে পারেন। তবে সবচেয়ে সহজ পথ হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ। ইসি কমিশনার মাছউদ জানিয়েছেন, সামনে পবিত্র রমজান মাস থাকায় এবং সরকার গঠনের তাড়া থাকায় দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে শপথের ব্যবস্থা করা হবে। চাইলে রমজানের আগেই নতুন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারে।
ভোটের প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির ২০৯ আসনের বিপরীতে এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে বড় বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং অন্যান্য ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলো ভাগ করে নিয়েছেন। এখন গেজেট প্রকাশ ও শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 













