সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দফায় দফায় শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ইরানের সামরিক বাহিনী ও দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। হামলায় এখন পর্যন্ত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহতের খবর পাওয়া গেছে, যা এই অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধের শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কুয়েতের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ‘ক্যাম্প বুহরিং’ (পূর্বতন নাম ক্যাম্প উদাইরি) এবং দক্ষিণের ‘ক্যাম্প আরিফজান’ লক্ষ্য করে গত বৃহস্পতিবার থেকেই আক্রমণ শুরু হয়। শুক্রবার সেই হামলার তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, তাদের সেনাবাহিনী বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক বিধ্বংসী ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই হামলা এখনই থামছে না। ইরান শীঘ্রই আবারও টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে বড় ধরনের আক্রমণ চালানোর চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যায় ড্রোন মোতায়েন করেছি এবং লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত করা হচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা ধরে এই অভিযানের তীব্রতা বজায় রাখা হবে।”
কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে ইরানের এই সরাসরি আঘাতের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ৬ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও পেন্টাগন থেকে এখনও বিস্তারিত বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই আক্রমণ কুয়েত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নিরাপত্তা সম্পর্ক এবং সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রা যোগ করল। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।















