ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
জাতীয় দিবস বাতিলের পর নিরুত্তাপ আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিনটি

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

ছবি : সংগৃহীত

 

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো মানুষের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর কালজয়ী ভাষণ প্রদান করেছিলেন।এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”- তাঁর এই বজ্রকণ্ঠের ঘোষণা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাত কোটি মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল। দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের পটভূমি ও দিকনির্দেশনা হিসেবে এই ভাষণ আজও ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে মার্চ মাসটি নানাভাবে ঘটনাবহুল। ৭ মার্চের সেই উদাত্ত আহ্বানের পর মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই প্রস্তুতির চূড়ান্ত রূপ পায়। ২০১৭ সালে ইউনেসকো এই ভাষণকেমেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করেওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজহিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার দিবসটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় পরিসরে পালন করা শুরু করে। ২০২০ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দিনটিকেশ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

 

তবে ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর ৭ মার্চের উদযাপন ও গুরুত্বের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ৭ মার্চসহ মোট আটটি জাতীয় দিবস পালন না করার ঘোষণা দেয়। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যাসিবাদের কালিমামুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে পুরোনো রাজনৈতিক বিভাজন ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী কেন্দ্রিক দিবসগুলো পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার দিবসটি পালনে রাষ্ট্রীয় কোনো জাঁকজমক বা আনুষ্ঠানিকতা দেখা যাচ্ছে না।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৭ মার্চ ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এর দলীয়করণ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তন দিবসটির রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পরিবর্তন এনেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং দেশে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার বিরোধী অপরাধের দায়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান। দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ কারান্তরীণ অথবা আত্মগোপনে থাকায় এবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও কোনো উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি পালন সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে এক ভিন্নতর ও নিরুত্তাপ আবহে আজ পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক এই দিনটি।

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

জাতীয় দিবস বাতিলের পর নিরুত্তাপ আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিনটি

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ

Update Time : ০৭:৪০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো মানুষের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর কালজয়ী ভাষণ প্রদান করেছিলেন।এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”- তাঁর এই বজ্রকণ্ঠের ঘোষণা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সাত কোটি মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেছিল। দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের পটভূমি ও দিকনির্দেশনা হিসেবে এই ভাষণ আজও ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে মার্চ মাসটি নানাভাবে ঘটনাবহুল। ৭ মার্চের সেই উদাত্ত আহ্বানের পর মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেই প্রস্তুতির চূড়ান্ত রূপ পায়। ২০১৭ সালে ইউনেসকো এই ভাষণকেমেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করেওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজহিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার দিবসটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় পরিসরে পালন করা শুরু করে। ২০২০ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দিনটিকেশ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

 

তবে ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর ৭ মার্চের উদযাপন ও গুরুত্বের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ৭ মার্চসহ মোট আটটি জাতীয় দিবস পালন না করার ঘোষণা দেয়। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যাসিবাদের কালিমামুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে পুরোনো রাজনৈতিক বিভাজন ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী কেন্দ্রিক দিবসগুলো পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার দিবসটি পালনে রাষ্ট্রীয় কোনো জাঁকজমক বা আনুষ্ঠানিকতা দেখা যাচ্ছে না।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৭ মার্চ ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও এর দলীয়করণ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তন দিবসটির রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পরিবর্তন এনেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং দেশে তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার বিরোধী অপরাধের দায়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও বিচার প্রক্রিয়া চলমান। দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ কারান্তরীণ অথবা আত্মগোপনে থাকায় এবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও কোনো উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি পালন সম্ভব হচ্ছে না। সব মিলিয়ে এক ভিন্নতর ও নিরুত্তাপ আবহে আজ পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক এই দিনটি।