সংগৃহীত ছবি
সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালের কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের আটজন শীর্ষ কর্মকর্তা। দীর্ঘ টালবাহানা ও দুই দফা তারিখ পরিবর্তনের পর আগামী ১৫ মার্চ তাদের ঢাকা ত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় এই বিদেশযাত্রার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ‘পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পের অধীনে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের ‘হিটিং, ভেন্টিলেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (এইচভিএসি) সিস্টেম ট্রেনিং’ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। তবে এই সফরের পুরো খরচ বহন করবে সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেমের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ‘ডানহাম-বুশ’ (Dunham-Bush)।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র পাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) কাজী মো. ফিরোজ হোসেন এবং প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. নাজমুল আলমসহ আরও তিনজন প্রকৌশলী ও স্থপতি এই দলে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে এবং শেষে দুই দফায় এই সফরের অনুমোদন নেওয়া হলেও অনিবার্য কারণে তা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ৪ মার্চের নতুন আদেশ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিন তারা যুক্তরাষ্ট্রে ‘সেফটি ফ্যাসিলিটিস, অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ম্যানেজমেন্ট অব এইচভিএসি সিস্টেম’ শীর্ষক প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। যাতায়াত সময় এই পাঁচ দিনের বাইরে থাকবে।
এই প্রশিক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ জানান, হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এসি সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জটিল। যেহেতু গণপূর্ত অধিদপ্তরই এই সিস্টেমগুলো পরবর্তীতে রক্ষণাবেক্ষণ করবে, তাই হাতে-কলমে এই জ্ঞান অর্জন ভবিষ্যতে প্রয়োগ করা সহজ হবে। অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীও এই প্রশিক্ষণকে প্রকৌশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। ২০১৯ সালে নেওয়া এই প্রকল্পটি দেশের চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
















