আগামী শনিবার (২১ মার্চ) বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঈদের আনন্দ ম্লান করে দিতে পারে প্রকৃতির রুদ্ররূপ। আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষকদের মতে, ঈদের দিন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ওপর দিয়ে দুই দফায় শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়, তীব্র বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি বয়ে যাওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক পূর্বাভাসে জানান, ঈদের দিন শনিবার সকালে এবং সন্ধ্যার পর—এই দুই সময়ে প্রকৃতি উত্তাল হতে পারে। বিশেষ করে ঈদের নামাজের সময়টাতে বৃষ্টির বাগড়া দেওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। গবেষকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুক্রবার মধ্যরাতের পর ভারতের বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে এই ঝড় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এটি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাবে।
পলাশের তথ্যমতে, ঝড়ের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাত ১২টার পর থেকে সকাল ৬টার মধ্যে এটি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে আঘাত হানবে। এরপর সকাল ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগে এবং সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের ওপর দিয়ে ঝড়টি অতিক্রম করতে পারে। অর্থাৎ, ঢাকা শহরে ঈদের জামাতের ঠিক আগমুহূর্তে বা চলাকালীন (সকাল ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে) কালবৈশাখীর হানা দেওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরও বৃষ্টির এই আশঙ্কার কথা নিশ্চিত করেছে। পরবর্তী ৫ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এর মধ্যে প্রথম তিন দিন শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এদিন সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
ঈদের দিন শনিবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা থেকে যাবে। বৃষ্টির এই ধারাবাহিকতায় সোমবারও দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে ঈদযাত্রায় এবং ঈদের দিনের ঘোরাঘুরিতে সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


























