ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের ময়দানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে লোহিত সাগরে মোতায়েন এই রণতরীতে শত্রু পক্ষের কোনো হামলার কারণে আগুন লাগেনি বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। তারা জানিয়েছে, এটি একটি অভ্যন্তরীণ দুর্ঘটনা।
বিবৃতিতে জানানো হয়, রণতরীটির লন্ড্রি রুমে যেখানে নৌ–সেনাদের পোশাক ধোয়া হচ্ছিল, সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা নেভাতে গিয়ে দুইজন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে এবং তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রায় ৪ হাজার ৫০০ সেনা সদস্য নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে আনা হয়েছিল এই রণতরীটি। বর্তমানে এটি লোহিত সাগর থেকে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ওমান সাগরে মোতায়েন থাকা অন্য একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ওমান সাগরের ইরানি সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত ওই রণতরীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের দাবি, হামলার তীব্রতায় রণতরীটি ওই এলাকা ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
যদিও পেন্টাগন আব্রাহাম লিংকন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খোলেনি, তবে একই দিনে দুটি বড় রণতরীকে ঘিরে এমন সংবাদে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা আরও প্রকট হয়েছে। সমর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেরাল্ড আর. ফোর্ডে আগুনের ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হলেও, আব্রাহাম লিংকনের ওপর হামলার দাবিটি সত্য হলে তা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমানে লোহিত সাগর ও ওমান সাগরে মার্কিন ও ইরানি নৌবাহিনীর শক্তি প্রদর্শন ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 













