ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বর্বরোচিত বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকালে ‘শাজারে তাইয়্যেবা’ নামক ওই স্কুলে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
হামলায় আরও অন্তত ৯৫ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক শিশু চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
মিনাব শহরের গভর্নর এই নৃংশসতাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে আজ রবিবার (১ মার্চ) শহরজুড়ে একদিনের শোক ঘোষণা করেছেন। উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা এখনো স্কুল প্রাঙ্গণে বিরামহীনভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আইআরআইবি প্রকাশিত এক হৃদয়বিদারক ভিডিওতে দেখা গেছে, স্কুলের বিধ্বস্ত মেঝেতে একের পর এক মরদেহের ব্যাগ রাখা হয়েছে, যা দেখে শোকাতুর স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
একই দিন ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় লামের্দ প্রদেশে একটি জিমনেশিয়ামেও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালায়। বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, সেখানে ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল শিশু। ওই হামলায় আরও প্রায় ১০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান সরকার এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে এবং একে ‘নিরীহ শিশুদের ওপর পরিকল্পিত গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই নজিরবিহীন হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।















