ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টানা ১,২২৪ ঘণ্টা শাটডাউনে সংকটে দেশটির অর্থনীতি

ইরানে ইন্টারনেটহীন ৫২ দিন: বিপর্যস্ত জনজীবন ও বাণিজ্য

সংগৃহীত ছবি

 

ইরানে চলমান ডিজিটাল অন্ধকার ৫২তম দিনে পদার্পণ করেছে, যা দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘতম ইন্টারনেট শাটডাউন হিসেবে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সময়কাল ১,২২৪ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবসা-বাণিজ্য।

 

 

চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ইরান সরকার প্রাথমিকভাবে সামাজিক মাধ্যম ও ইন্টারনেটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়। জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তখন থেকেই ইন্টারনেট শাটডাউন আরও কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী করা হয়েছে।

 

 

এই দীর্ঘ ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটের ফলে ইরানের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান ও অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসাগুলোতে ধস নেমেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর ভিত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

বিদেশের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় আমদানি-রপ্তানি খাতেও বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ব্যবস্থাকে তথ্যের অবাধ প্রবাহ রোধের একটি হাতিয়ার হিসেবে সমালোচনা করলেও তেহরান এখনও সংযোগ ফেরানোর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়নি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

টানা ১,২২৪ ঘণ্টা শাটডাউনে সংকটে দেশটির অর্থনীতি

ইরানে ইন্টারনেটহীন ৫২ দিন: বিপর্যস্ত জনজীবন ও বাণিজ্য

Update Time : ০৭:৪৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

ইরানে চলমান ডিজিটাল অন্ধকার ৫২তম দিনে পদার্পণ করেছে, যা দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘতম ইন্টারনেট শাটডাউন হিসেবে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সময়কাল ১,২২৪ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবসা-বাণিজ্য।

 

 

চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে নতুন করে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে ইরান সরকার প্রাথমিকভাবে সামাজিক মাধ্যম ও ইন্টারনেটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়। জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তখন থেকেই ইন্টারনেট শাটডাউন আরও কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী করা হয়েছে।

 

 

এই দীর্ঘ ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটের ফলে ইরানের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান ও অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসাগুলোতে ধস নেমেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর ভিত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

বিদেশের সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় আমদানি-রপ্তানি খাতেও বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ব্যবস্থাকে তথ্যের অবাধ প্রবাহ রোধের একটি হাতিয়ার হিসেবে সমালোচনা করলেও তেহরান এখনও সংযোগ ফেরানোর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়নি।