ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অপসারণের চক্রান্ত ও অসাংবিধানিক চেষ্টার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন রাষ্ট্রপতি

আমাকে অপসারণের পেছনে ছিল বড় চক্রান্ত: রাষ্ট্রপতি

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে তাঁকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে অপসারণের নানা চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চাপের মুখে রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে তাঁকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাঁকে অপসারণের অবস্থানে পৌঁছায়। রাষ্ট্রপতি জানান, বিএনপি ও তাদের রাজনৈতিক জোট দৃঢ়ভাবে তাঁর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সেই পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

 

রাষ্ট্রপতির ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে অসাংবিধানিক উপায়ে বিকল্প পথ খোঁজা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতির স্থলাভিষিক্ত করার জন্য ইউনূস সরকারের একজন উপদেষ্টা গোপনে বৈঠক করেছিলেন। তবে প্রধান বিচারপতি সাংবিধানিক পদের মর্যাদা রক্ষা করে সেই প্রস্তাবে সায় দেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতির আসনে বসা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। প্রধান বিচারপতির এই দৃঢ় অবস্থানই সরকারের সেই শেষ চেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়।

 

এই সংকটকালে সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী ও পেশাদার ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, তিন বাহিনীর প্রধানগণ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁর পরাজয় মানে পুরো বাহিনীর পরাজয়। বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনো অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সশস্ত্র বাহিনীর অভয়বাণী এবং বিএনপির অটুট সমর্থনই তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেয়নি এবং রাষ্ট্রপতির পদটি রক্ষা করতে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

অপসারণের চক্রান্ত ও অসাংবিধানিক চেষ্টার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন রাষ্ট্রপতি

আমাকে অপসারণের পেছনে ছিল বড় চক্রান্ত: রাষ্ট্রপতি

Update Time : ০৬:৩৫:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে তাঁকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে অপসারণের নানা চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চাপের মুখে রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে তাঁকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাঁকে অপসারণের অবস্থানে পৌঁছায়। রাষ্ট্রপতি জানান, বিএনপি ও তাদের রাজনৈতিক জোট দৃঢ়ভাবে তাঁর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সেই পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।

 

রাষ্ট্রপতির ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে অসাংবিধানিক উপায়ে বিকল্প পথ খোঁজা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতির স্থলাভিষিক্ত করার জন্য ইউনূস সরকারের একজন উপদেষ্টা গোপনে বৈঠক করেছিলেন। তবে প্রধান বিচারপতি সাংবিধানিক পদের মর্যাদা রক্ষা করে সেই প্রস্তাবে সায় দেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতির আসনে বসা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। প্রধান বিচারপতির এই দৃঢ় অবস্থানই সরকারের সেই শেষ চেষ্টা নস্যাৎ করে দেয়।

 

এই সংকটকালে সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী ও পেশাদার ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, তিন বাহিনীর প্রধানগণ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁর পরাজয় মানে পুরো বাহিনীর পরাজয়। বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনো অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সশস্ত্র বাহিনীর অভয়বাণী এবং বিএনপির অটুট সমর্থনই তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেয়নি এবং রাষ্ট্রপতির পদটি রক্ষা করতে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।