ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
উত্তেজনার মুখে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা; ভিন্ন সুর আইআরজিসি কমান্ডারের

আমরা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করিনি, বললেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

 

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথহরমুজ প্রণালীইরান সরকার বন্ধ করে দিয়েছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই নৌপথ বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো নিজেরাই এই পথ দিয়ে চলাচল করতে সাহস পাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, “আমরা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করিনি। বর্তমানে জাহাজ ও ট্যাঙ্কারগুলো ওই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচল করতে চাইছে না, কারণ তারা সেখানে নিজেদের নিরাপদ মনে করছে না। আমাদের পক্ষ থেকে এখনই হরমুজ বন্ধ করার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।তবে পরক্ষণেই তিনি একটি সতর্কবার্তা যোগ করে বলেন, “যেহেতু বর্তমানে একটি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি চলছে, তাই আমরা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো বিকল্পকেই বিবেচনায় নেব।আরাগচির এই বক্তব্যে একদিকে যেমন আশ্বাসের সুর রয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা বাড়লে পথটি বন্ধ করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকিও বিদ্যমান।

 

আশ্চর্যের বিষয় হলো, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কূটনৈতিক ও নরম সুরের ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে। মাত্র দুই দিন আগে ইরানের শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) একজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার রেডিও বার্তায় সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, “হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো বিদেশি জাহাজ বা ট্যাঙ্কার যাওয়ার চেষ্টা করলে সেই জাহাজ পুড়িয়ে দেওয়া হবে।সামরিক ও কূটনৈতিক মহলের এই বিপরীতমুখী অবস্থান বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চরম বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি করেছে।

 

আন্তর্জাতিক নৌনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথটি সামান্য সময়ের জন্য বন্ধ হলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বর্তমানে ইরানইসরায়েলযুক্তরাষ্ট্র ত্রিমুখী যুদ্ধের যে দামামা বাজছে, তাতে হরমুজ প্রণালীই হয়ে উঠেছে তেহরানের প্রধান দাবার ঘুঁটি। একদিকে কূটনীতিবিদরা আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতে নরম সুরে কথা বলছেন, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের সামরিক কমান্ডাররা সরাসরি আক্রমণের হুমকি দিচ্ছেন। এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে ইরান মূলত পশ্চিমাদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

সূত্র: এনবিসি

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

উত্তেজনার মুখে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা; ভিন্ন সুর আইআরজিসি কমান্ডারের

আমরা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করিনি, বললেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০১:০৬:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথহরমুজ প্রণালীইরান সরকার বন্ধ করে দিয়েছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই নৌপথ বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো নিজেরাই এই পথ দিয়ে চলাচল করতে সাহস পাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, “আমরা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করিনি। বর্তমানে জাহাজ ও ট্যাঙ্কারগুলো ওই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচল করতে চাইছে না, কারণ তারা সেখানে নিজেদের নিরাপদ মনে করছে না। আমাদের পক্ষ থেকে এখনই হরমুজ বন্ধ করার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই।তবে পরক্ষণেই তিনি একটি সতর্কবার্তা যোগ করে বলেন, “যেহেতু বর্তমানে একটি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি চলছে, তাই আমরা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো বিকল্পকেই বিবেচনায় নেব।আরাগচির এই বক্তব্যে একদিকে যেমন আশ্বাসের সুর রয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা বাড়লে পথটি বন্ধ করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকিও বিদ্যমান।

 

আশ্চর্যের বিষয় হলো, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কূটনৈতিক ও নরম সুরের ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে। মাত্র দুই দিন আগে ইরানের শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) একজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার রেডিও বার্তায় সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, “হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো বিদেশি জাহাজ বা ট্যাঙ্কার যাওয়ার চেষ্টা করলে সেই জাহাজ পুড়িয়ে দেওয়া হবে।সামরিক ও কূটনৈতিক মহলের এই বিপরীতমুখী অবস্থান বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চরম বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি করেছে।

 

আন্তর্জাতিক নৌনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথটি সামান্য সময়ের জন্য বন্ধ হলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বর্তমানে ইরানইসরায়েলযুক্তরাষ্ট্র ত্রিমুখী যুদ্ধের যে দামামা বাজছে, তাতে হরমুজ প্রণালীই হয়ে উঠেছে তেহরানের প্রধান দাবার ঘুঁটি। একদিকে কূটনীতিবিদরা আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতে নরম সুরে কথা বলছেন, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের সামরিক কমান্ডাররা সরাসরি আক্রমণের হুমকি দিচ্ছেন। এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে ইরান মূলত পশ্চিমাদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

সূত্র: এনবিসি