আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সীমান্তের কাছে পাহারা দিচ্ছেন তালেবান সেনারা। ছবি : রয়টার্স
প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা এখন এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। শুক্রবার পাকিস্তান দাবি করেছে, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ২২৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এই অভিযানে আহত হয়েছে আরও ৩১৪ জন।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে জানান, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে তালেবানের প্রতিরক্ষা লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এই শক্তিশালী হামলা চালানো হয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সফল এই অভিযানে তালেবানের ৭৪টি সামরিক চৌকি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৮টি চৌকি পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আফগান সীমান্ত থেকে চালানো গোলার আঘাতে পাকিস্তানে অন্তত ২৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে পাকিস্তানের এই দাবির বিপরীতে পাল্টাপাল্টি বড় সাফল্যের দাবি করেছে আফগান তালেবান সরকার। তালেবানের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বোমাবর্ষণ করেছে। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, এই লড়াইয়ে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং তারা পাকিস্তানের ১৯টি সামরিক চৌকি দখল করে নিয়েছে। তালেবান কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তথ্যে ৮ জন যোদ্ধা নিহত ও ১১ জন আহত হওয়ার কথা জানালেও পরিস্থিতি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দুই দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘তোরখাম’ সীমান্ত ক্রসিং এলাকায় প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ চলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও মিডল ইস্ট আই-এর তথ্যমতে, এই সংঘাতের ফলে সীমান্তে চরম মানবিক বিপর্যয় ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতির দাবি করায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও এটি স্পষ্ট যে, দক্ষিণ এশিয়ায় এক বড় ধরনের আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























