ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩৭ স্থানে বিমান হামলা ও শতাধিক চেকপোস্ট ধ্বংসের দাবি ইসলামাবাদের।

আফগানিস্তানের সাথে ‘সরাসরি যুদ্ধে’ পাকিস্তান; নিহত ৩৩১

  • অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩০ Time View

|আফগানিস্তানের তোরখাম সীমান্তের কাছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর তালেবান সেনারা একটি গাড়িতে রকেট লঞ্চার লোড করছে; ২৭শে ফেব্রুয়ারির ছবি

 

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা এখন রক্তক্ষয়ী ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে। শুক্রবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানের বিশেষ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন গজব-লিল-হক’-এ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকাল পর্যন্ত ৩৩১ জন আফগান ‘সন্ত্রাসী’ ও যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

 

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, এই অভিযানে আফগান তালেবানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, আফগানিস্তানের অন্তত ৩৭টি কৌশলগত স্থানে কার্যকর বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ১০৪টি চেকপোস্ট ধ্বংস, ২২টি পোস্ট দখল এবং ১৬৩টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ধৈর্য হারিয়েছে ইসলামাবাদ। তিনি অভিযোগ করেন, তালেবান প্রশাসন আফগানিস্তানকে ভারতের প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করছে।

 

এদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই দাবিকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও শিশুসহ অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে আফগান বাহিনীও পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান যদি যুদ্ধ বেছে নেয়, তবে আফগানিস্তানও শেষ পর্যন্ত লড়তে প্রস্তুত।

 

পাক প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মুশাররফ জাইদি স্পষ্ট করেছেন যে, সীমান্তপারের এই অভিযান ততক্ষণ চলবে যতক্ষণ না আফগান তালেবান ও টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) এর মধ্যকার যোগসূত্র পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়। বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে।

 

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানালেও রণক্ষেত্রে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

২০ বছর পর বঞ্চনার অবসান, ৩৩০ পুলিশ সদস্যকে চাকরি দিচ্ছে সরকার

৩৭ স্থানে বিমান হামলা ও শতাধিক চেকপোস্ট ধ্বংসের দাবি ইসলামাবাদের।

আফগানিস্তানের সাথে ‘সরাসরি যুদ্ধে’ পাকিস্তান; নিহত ৩৩১

Update Time : ০৯:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

|আফগানিস্তানের তোরখাম সীমান্তের কাছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর তালেবান সেনারা একটি গাড়িতে রকেট লঞ্চার লোড করছে; ২৭শে ফেব্রুয়ারির ছবি

 

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা এখন রক্তক্ষয়ী ‘উন্মুক্ত যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে। শুক্রবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানের বিশেষ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন গজব-লিল-হক’-এ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকাল পর্যন্ত ৩৩১ জন আফগান ‘সন্ত্রাসী’ ও যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

 

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, এই অভিযানে আফগান তালেবানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, আফগানিস্তানের অন্তত ৩৭টি কৌশলগত স্থানে কার্যকর বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ১০৪টি চেকপোস্ট ধ্বংস, ২২টি পোস্ট দখল এবং ১৬৩টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ধৈর্য হারিয়েছে ইসলামাবাদ। তিনি অভিযোগ করেন, তালেবান প্রশাসন আফগানিস্তানকে ভারতের প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করছে।

 

এদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের এই দাবিকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হামলায় বেসামরিক নাগরিক ও শিশুসহ অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে আফগান বাহিনীও পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান যদি যুদ্ধ বেছে নেয়, তবে আফগানিস্তানও শেষ পর্যন্ত লড়তে প্রস্তুত।

 

পাক প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মুশাররফ জাইদি স্পষ্ট করেছেন যে, সীমান্তপারের এই অভিযান ততক্ষণ চলবে যতক্ষণ না আফগান তালেবান ও টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) এর মধ্যকার যোগসূত্র পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়। বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে।

 

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানালেও রণক্ষেত্রে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই।