ঢাকা , শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
টানা দুই জয়ে সুপার এইটের দোরগোড়ায় সিকান্দার রাজারা; অজিদের ২৩ রানে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড়

অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিল জিম্বাবুয়ে: মুজারাবানির রেকর্ড বোলিংয়ে ঐতিহাসিক জয়

টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপে চমকের পর চমক অব্যাহত রয়েছে। ইতালির নেপালবধের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ক্রিকেট বিশ্ব দেখল এক নতুন বিষ্ময়।বিগ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে জিম্বাবুয়ে। সিকান্দার রাজা ও ব্লেসিং মুজারাবানিদের এই জয়ে গ্রুপপর্বে টানা দুই ম্যাচ জিতে এখন সুপার এইটের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকান দেশটি। দুর্দান্ত বোলিং স্পেলে অজি ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন গতিদানব ব্লেসিং মুজারাবানি।

 

টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায়। দলের পক্ষে উজ্জ্বল ছিলেন তরুণ ব্রায়ান বেনেট, যাঁর অনবদ্য ফিফটি জিম্বাবুয়েকে লড়াকু পুঁজি এনে দেয়। রান তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের বোলিং তোপের মুখে শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে অজিরা। মাঝপথে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং ম্যাট রেনশ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আস্কিং রানরেটের পাহাড় টপকাতে পারেনি তারা। পুরো দল অলআউট হয় মাত্র ১৪৬ রানে।

 

জিম্বাবুয়ের এই ঐতিহাসিক জয়ের প্রধান নায়ক ব্লেসিং মুজারাবানি। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচ করে তিনি তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। পাওয়ার প্লেতেই জশ ইংলিশ ও টিম ডেভিডকে সাজঘরে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন তিনি। এরপর বিধ্বংসী হয়ে ওঠা ম্যাট রেনশ (৬৫) এবং অ্যাডাম জাম্পাকে বোল্ড করে জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচ শেষে মুজারাবানি বলেন, “বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে বোলিং করে এমন জয় পাওয়া সত্যিই আনন্দের। কন্ডিশন বুঝে উইকেট এবং বড় বাউন্ডারিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা সফল হয়েছে।

 

টানা দুই জয়ে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপবি’-র তালিকায় এখন দ্বিতীয় স্থানে জিম্বাবুয়ে। সমান পয়েন্ট থাকলেও রানরেটে এগিয়ে থেকে শীর্ষে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। মুজারাবানি এখন আর গ্রুপপর্বে আটকে থাকতে চান না, তাঁর চোখ এখন সরাসরি সুপার এইটে। সতীর্থ রিচার্ড এনগারাভার অনুপস্থিতিতে ব্র্যাড ইভান্সের বোলিংয়েরও প্রশংসা করেন তিনি। অজিদের বিপক্ষে এই জয় কেবল জিম্বাবুয়ের জন্যই নয়, বরং ছোট দলগুলোর বড় স্বপ্নে বিভোর হওয়ার এক নতুন উদাহরণ হয়ে রইল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদের দুপুরে শাহী স্বাদে ‘বাটার চিকেন বিরিয়ানি’

টানা দুই জয়ে সুপার এইটের দোরগোড়ায় সিকান্দার রাজারা; অজিদের ২৩ রানে হারিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড়

অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিল জিম্বাবুয়ে: মুজারাবানির রেকর্ড বোলিংয়ে ঐতিহাসিক জয়

Update Time : ১০:৩৬:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপে চমকের পর চমক অব্যাহত রয়েছে। ইতালির নেপালবধের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ক্রিকেট বিশ্ব দেখল এক নতুন বিষ্ময়।বিগ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে জিম্বাবুয়ে। সিকান্দার রাজা ও ব্লেসিং মুজারাবানিদের এই জয়ে গ্রুপপর্বে টানা দুই ম্যাচ জিতে এখন সুপার এইটের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকান দেশটি। দুর্দান্ত বোলিং স্পেলে অজি ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন গতিদানব ব্লেসিং মুজারাবানি।

 

টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায়। দলের পক্ষে উজ্জ্বল ছিলেন তরুণ ব্রায়ান বেনেট, যাঁর অনবদ্য ফিফটি জিম্বাবুয়েকে লড়াকু পুঁজি এনে দেয়। রান তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের বোলিং তোপের মুখে শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে অজিরা। মাঝপথে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং ম্যাট রেনশ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আস্কিং রানরেটের পাহাড় টপকাতে পারেনি তারা। পুরো দল অলআউট হয় মাত্র ১৪৬ রানে।

 

জিম্বাবুয়ের এই ঐতিহাসিক জয়ের প্রধান নায়ক ব্লেসিং মুজারাবানি। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচ করে তিনি তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। পাওয়ার প্লেতেই জশ ইংলিশ ও টিম ডেভিডকে সাজঘরে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন তিনি। এরপর বিধ্বংসী হয়ে ওঠা ম্যাট রেনশ (৬৫) এবং অ্যাডাম জাম্পাকে বোল্ড করে জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচ শেষে মুজারাবানি বলেন, “বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে বোলিং করে এমন জয় পাওয়া সত্যিই আনন্দের। কন্ডিশন বুঝে উইকেট এবং বড় বাউন্ডারিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা সফল হয়েছে।

 

টানা দুই জয়ে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপবি’-র তালিকায় এখন দ্বিতীয় স্থানে জিম্বাবুয়ে। সমান পয়েন্ট থাকলেও রানরেটে এগিয়ে থেকে শীর্ষে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। মুজারাবানি এখন আর গ্রুপপর্বে আটকে থাকতে চান না, তাঁর চোখ এখন সরাসরি সুপার এইটে। সতীর্থ রিচার্ড এনগারাভার অনুপস্থিতিতে ব্র্যাড ইভান্সের বোলিংয়েরও প্রশংসা করেন তিনি। অজিদের বিপক্ষে এই জয় কেবল জিম্বাবুয়ের জন্যই নয়, বরং ছোট দলগুলোর বড় স্বপ্নে বিভোর হওয়ার এক নতুন উদাহরণ হয়ে রইল।