আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণার ক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবারের নির্বাচনে প্রচারণার কাজে কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সকল রিটার্নিং অফিসারকে এই নির্দেশনা প্রতিপালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে ঘিরে পরিবেশ সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা পুরোদমে চলমান রয়েছে। আচরণবিধি অনুযায়ী প্রচারণার ক্ষেত্রে লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন, ব্যানার বা বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও ‘পোস্টার’ ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে লিফলেট বিতরণ করতে পারলেও দেয়াল বা প্রকাশ্য স্থানে কোনো প্রকার নির্বাচনি পোস্টার সাঁটাতে পারবেন না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে তা নির্বাচনি আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনি পোস্টার মুদ্রণ করতে না পারেন, সেজন্য স্থানীয় প্রিন্টিং প্রেস বা ছাপাখানাগুলোকেও আগাম নির্দেশনা দেওয়ার জন্য রিটার্নিং অফিসারদের অনুরোধ করা হয়েছে। মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নির্বাচনি পোস্টার ছাপে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মূলত শহর ও গ্রামের দৃশ্যমান পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নির্বাচনি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই কমিশন এই আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সকল রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এই আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইসি।















