ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বড় ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেল আবিবে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশ একমত হয়েছে যে, প্রয়োজন পড়লে ইরানে অত্যন্ত দ্রুত এবং শক্তিশালী হামলা চালানো হবে। গত রবিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার ব্র্যাড কুপার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এই বিশেষ বৈঠকটি করেন।
বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে ইরানের মোকাবিলায় উভয় পক্ষই অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হলেও সুনির্দিষ্ট এবং অতর্কিত (Surgical Strike) হামলার জন্য ওয়াশিংটন সবসময় প্রস্তুত। সেন্টকম কমান্ডার ব্র্যাড কুপার বৈঠকে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কৌশল হচ্ছে দ্রুত, আকস্মিক এবং সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান পরিচালনা করা, যাতে প্রতিপক্ষ সামলে ওঠার সুযোগ না পায়।
এই আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, মার্কিন কর্মকর্তারা এখন ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনকে (Regime Change) একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছেন। বৈঠকে জানানো হয়, যদি কোনো হামলা চালানো হয়, তবে তার মূল লক্ষ্য হবে সাধারণ নাগরিক ও বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের জন্য দায়ীদের ওপর আঘাত হানা। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলসহ মিত্রদের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং যেকোনো মূল্যে সুরক্ষার আশ্বাস দিয়েছে। সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার এই অঙ্গীকারের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।















