২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে যাবতীয় ফৌজদারি দায়মুক্তি এবং আইনি সুরক্ষা প্রদান করে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যাদেশ জারি করেছে। রবিবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এই সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই ঐতিহাসিক দায়মুক্তির প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছিল।
প্রকাশিত গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড এবং সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ করা ছাত্র-জনতার জন্য অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল এবং আত্মরক্ষার্থে নেওয়া সেই সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপকে আইনি বৈধতা দিতে সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংগঠিত কোনো রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ফৌজদারি মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।
এই অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জুলাইযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হলো। সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিশিষ্টজনরা বলছেন, এটি বিপ্লব পরবর্তী আইনি জটিলতা নিরসনে এবং আন্দোলনকারীদের মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এই আইনি ঢাল জুলাইযোদ্ধাদের জন্য একটি বড় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।















