আসন্ন বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্তে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্রিকেট বিশ্ব। ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের উত্থাপিত যৌক্তিক শঙ্কা আমলে না নিয়ে আইসিসি যে অবস্থান নিয়েছে, তাকে ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে অভিহিত করছেন সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট সংগঠকরা। দীর্ঘ ২১ দিনের আলোচনা ও বিতর্কের পর অবশেষে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই বিশ্বকাপ আয়োজনের পথে হাঁটছে আইসিসি, যা আইসিসির নিরপেক্ষতাকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থার এমন সিদ্ধান্তে সাবেক তারকা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম—সবাই এখন তোপ দাগছে আইসিসির দিকে।
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসার জেসন গিলেস্পি আইসিসির এই সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, ভারত যখন নিরাপত্তার অজুহাতে কোথাও যেতে আপত্তি জানায়, তখন আইসিসি তা দ্রুত মেনে নেয়; কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কেন সেই একই মানদণ্ড অনুসরণ করা হলো না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সুরে হতাশা ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি। আইসিসির এই একপাক্ষিক অবস্থান ক্রিকেটের বৈশ্বিক সংহতি নষ্ট করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে বাংলাদেশের প্রতি এমন অন্যায়ের প্রতিবাদে সবচেয়ে সরব হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইসিসি একই টুর্নামেন্টে দুই দেশের জন্য দুই রকম নীতি গ্রহণ করতে পারে না। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ঘোরতর অন্যায় হয়েছে। আপনারা যখন খুশি এক দেশের জন্য এক নিয়ম আর অন্য দেশের জন্য বিপরীত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।” এমনকি এই ঘটনার প্রতিবাদে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে ক্রিকেট বিশ্বের ‘বাইবেল’ খ্যাত ম্যাগাজিন ‘উইজডেন’ আইসিসির এই দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা বৈশ্বিক ক্রিকেটে আইসিসির ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে।

























