ভয়াবহ শীতকালীন ঝড় ও নজিরবিহীন তুষারপাতের কবলে পড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটির ২০টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সতর্কতার আওতায় আনা হয়েছে প্রায় ৩৭টি অঙ্গরাজ্যকে। হাড়কাঁপানো এই শৈত্যপ্রবাহে টেক্সাস ও লুইজিয়ানাসহ বেশ কিছু এলাকায় অন্তত ১ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বৈরি আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যা কোভিড মহামারি পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ ফ্লাইট বাতিলের রেকর্ড।
মার্কিন আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, এই ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০ কোটি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। টেক্সাস থেকে শুরু করে টেনেসির দীর্ঘ ১৩ মাইল এলাকা এখন ঘন তুষারের নিচে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হিমশীতল বৃষ্টি এবং নিউ ইয়র্ক সিটিতে রোববার থেকে তীব্র তুষারপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সুপারমার্কেটগুলোতে নিত্যপণ্য শেষ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (FEMA) উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করলেও বাসিন্দাদের ‘হাইপোথার্মিয়া’ ও ‘ফ্রস্টবাইট’ থেকে বাঁচতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ কানাডাতেও শৈত্যপ্রবাহের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। টরন্টো ও অটোয়ায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে মাইনাস ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে, ফলে সেখানেও বিমান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্যদিকে, এশিয়ার দেশ ভারতেও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব দেখা গেছে। হিমাচল প্রদেশের মানালিতে ভারী তুষারপাতের কারণে দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার পর্যটক সেখানে আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হোটেল কর্তৃপক্ষ নতুন সব বুকিং বন্ধ করে দিয়েছে।















