বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দুই দেশের মধ্যে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই সিদ্ধান্তকে ‘যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, যা দেশের রপ্তানি খাতে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করবে।
প্রেস সচিব জানান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ এই প্রথমবারের মতো বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সাথে এমন চুক্তি করতে যাচ্ছে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকসহ (আরএমজি) হাজারো পণ্য যেমন জাপানে সুবিধা পাবে, তেমনি জাপানও বাংলাদেশে তাদের ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এ ছাড়া জাপান বাংলাদেশের জন্য তাদের ১২০টি সেবা খাত উন্মুক্ত করবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির ফলে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার তেমন কোনো আশঙ্কা নেই, বরং এটি অন্য উন্নত দেশগুলোর সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি করার পথ প্রশস্ত করবে।
এদিন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘জাতীয় পোল্ট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন করা হয়েছে। প্রেস সচিব উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের জিডিপিতে পোল্ট্রি খাতের অবদান প্রায় ২ শতাংশ এবং দেশের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ সরাসরি এই শিল্পের সাথে জড়িত, যার ৪০ শতাংশই নারী। নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে ছোট খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পোল্ট্রি খাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের গত মে মাসে জাপান সফরের সময় শুরু হওয়া এই বাণিজ্যিক আলোচনার চূড়ান্ত রূপ হিসেবে চলতি মাসেই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

















