ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদর্শনী কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র ক্যাফেটেরিয়া এলাকা

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষ: ভিডিও পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন

সংগৃহীত ছবি

 

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি টাঙানোকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে সংগৃহীত ‘ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে’ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

 

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে এই তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

 

 

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের প্রদর্শনীতে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত জামায়াতের সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করা হয়।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবির পাশে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি টাঙানো দেখে তারা ছবিগুলো সরিয়ে নিতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিবির কর্মীরা প্রথম তাদের ওপর চড়াও হয় বলে দাবি তাঁর। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিকের অভিযোগ, প্রশাসনকে না জানিয়ে জোরপূর্বক ব্যানার নামাতে এসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গাছের ডাল ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়।

 

 

সংঘর্ষের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান জানান, প্রদর্শনীর একটি নির্দিষ্ট ব্যানারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের আপত্তির জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

 

 

ঘটনার বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংঘর্ষে জড়িতদের কঠোরভাবে চিহ্নিত করা হবে এবং আইনানুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

 

 

এদিকে রংপুরের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে ৫ আগস্ট ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার

যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদর্শনী কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র ক্যাফেটেরিয়া এলাকা

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষ: ভিডিও পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন

Update Time : ০৫:৫০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি টাঙানোকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে সংগৃহীত ‘ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে’ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

 

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে এই তীব্র উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী চলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

 

 

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের প্রদর্শনীতে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত জামায়াতের সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করা হয়।

 

 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবির পাশে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি টাঙানো দেখে তারা ছবিগুলো সরিয়ে নিতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিবির কর্মীরা প্রথম তাদের ওপর চড়াও হয় বলে দাবি তাঁর। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিকের অভিযোগ, প্রশাসনকে না জানিয়ে জোরপূর্বক ব্যানার নামাতে এসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গাছের ডাল ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়।

 

 

সংঘর্ষের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান জানান, প্রদর্শনীর একটি নির্দিষ্ট ব্যানারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের আপত্তির জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

 

 

ঘটনার বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংঘর্ষে জড়িতদের কঠোরভাবে চিহ্নিত করা হবে এবং আইনানুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসার সার্বিক ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

 

 

এদিকে রংপুরের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।