সংগৃহীত ছবি
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের অপবাদ দিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ও এক যুবককে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ ওই দুই ভুক্তভোগীর। এ ঘটনায় সাবেক এক বিএনপি নেতাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে কাশিয়ানী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেও বাকি আসামিদের ধরতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই উপজেলার রাহুথড় গ্রামের ‘রাহুথড় উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ প্রাঙ্গণে ওই অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ও সূর্য বাড়ৈ (১৯) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে গাছে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালায় একদল বখাটে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, নির্যাতনের পর ধৃত সূর্য বাড়ৈকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে চাঁদা দাবি করে অভিযুক্তরা। টাকা না দিলে ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও ভীতি ও অপমানের মুখে আত্মগোপনে চলে যান ভুক্তভোগীরা। ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রীর পরিবার ও স্বজনেরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাতিয়াড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নয়ন গোলদার এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে একদল বখাটেদের নিয়ে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন। এই বাহিনীর সদস্যরা গ্রামের সাধারণ মানুষদের বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে ধরে এনে নির্যাতন চালিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করত।
গোপালগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) নাফিছুর রহমান জানান, “ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যের ভিত্তিতে মামলার প্রধান আসামি নয়ন গোলদারকে রোববার মাদারীপুরের রাজৈর থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না; আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং অপরাধের ভিত্তিতেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
















