ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঢাকা আলিয়াসহ একাধিক ক্যাম্পাসে হেলমেট বাহিনী ও অস্ত্রের মহড়া

আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, হাতে পাইপ মাথায় হেলমেট পড়ে মাঠে যুবদল নেতা নয়ন

সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানী ঢাকার একাধিক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার ও হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর প্রধান প্রধান ক্যাম্পাসগুলোতে একের পর এক সংঘর্ষে পুরো শিক্ষাঙ্গনে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের সামনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের অনেককেই দেশীয় মারাত্মক অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

 

 

ঘটনার সময় আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় ছাত্রদলের সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও সরাসরি অংশ নিতে দেখা যায়। সংঘর্ষের তীব্রতার মধ্যে মাথায় হেলমেট এবং হাতে পাইপ নিয়ে ঘটনাস্থলে বলয় তৈরি করে উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন। সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় তাকে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করছেন না কেন? আপনারা সামনে যান, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।”

 

 

এর আগে সকালে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ ক্যাম্প্যাসেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

 

 

সংঘাতের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের তীব্র উত্তেজনা দীর্ঘক্ষণ অব্যাহত থাকে। একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সংঘাতের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান, নিরাপত্তা ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে ৫ আগস্ট ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার

ঢাকা আলিয়াসহ একাধিক ক্যাম্পাসে হেলমেট বাহিনী ও অস্ত্রের মহড়া

আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, হাতে পাইপ মাথায় হেলমেট পড়ে মাঠে যুবদল নেতা নয়ন

Update Time : ০৯:০৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানী ঢাকার একাধিক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার ও হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর প্রধান প্রধান ক্যাম্পাসগুলোতে একের পর এক সংঘর্ষে পুরো শিক্ষাঙ্গনে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

 

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের সামনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়াবহ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের অনেককেই দেশীয় মারাত্মক অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

 

 

ঘটনার সময় আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় ছাত্রদলের সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও সরাসরি অংশ নিতে দেখা যায়। সংঘর্ষের তীব্রতার মধ্যে মাথায় হেলমেট এবং হাতে পাইপ নিয়ে ঘটনাস্থলে বলয় তৈরি করে উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন। সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় তাকে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করছেন না কেন? আপনারা সামনে যান, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।”

 

 

এর আগে সকালে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ ক্যাম্প্যাসেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

 

 

সংঘাতের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের তীব্র উত্তেজনা দীর্ঘক্ষণ অব্যাহত থাকে। একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সংঘাতের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান, নিরাপত্তা ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।