ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাহসিকতা ও পেশাদারত্বে চোরচক্রের চেষ্টা নস্যাৎ, থানায় হস্তান্তর

রাজধানীর এক হাসপাতাল থেকে অস্ত্রসহ ৩ জন আটক

সংগৃহীত ছবি

 

 

রাজধানী ঢাকার শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের পেশাদারত্ব, সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক অভিযানে অস্ত্রধারী সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় চুরির উদ্দেশ্যে হাসপাতালে হামলা চালালে আনসার সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের কাবু করেন। পরবর্তীতে আটককৃতদের প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়।

 

 

ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) দক্ষিণ জোনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মালামাল চুরি করার উদ্দেশ্যে ৫ থেকে ৬ সদস্যের একটি অস্ত্রধারী চোরচক্র অনুপ্রবেশ করে। ওই সময় সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য শ্রী সজীব রায়, জুয়েল রানা ও জয় শীল তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া দিলে চোরচক্রের সদস্যরা চুরির মালামাল ফেলে চত্বর থেকে চম্পট দেয়।

 

 

তবে ঘটনার এখানেই শেষ হয়নি। পালিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পর চোরচক্রটি সংঘবদ্ধ হয়ে পুনরায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ফিরে আসে। তারা দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে মোটেও বিচলিত না হয়ে আনসার সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে মূল ক্যাম্পে অবস্থানরত সহকর্মীদের দ্রুত বিষয়টি জানান এবং তাৎক্ষণিকভাবে এক সমন্বিত ও ঝটিকা অভিযান শুরু করেন।

 

 

অভিযানের একপর্যায়ে আনসার দলের সদস্যরা ধাওয়া করে চাপাতিসহ চক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. রনি (২২), সাব্বির (২২) ও সালাম (২১)। তবে অভিযানের সময় অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চক্রের অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত দেশীয় মারাত্মক অস্ত্র (চাপাতি) জব্দ করা হয়েছে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ আসামিদের দ্রুত নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

 

 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই স্থাপনাসমূহে নিরাপত্তা বজায় রাখা, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে সার্বক্ষণিক পেশাদারত্ব এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

সাহসিকতা ও পেশাদারত্বে চোরচক্রের চেষ্টা নস্যাৎ, থানায় হস্তান্তর

রাজধানীর এক হাসপাতাল থেকে অস্ত্রসহ ৩ জন আটক

Update Time : ১২:১২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

 

রাজধানী ঢাকার শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের পেশাদারত্ব, সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক অভিযানে অস্ত্রধারী সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় চুরির উদ্দেশ্যে হাসপাতালে হামলা চালালে আনসার সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের কাবু করেন। পরবর্তীতে আটককৃতদের প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়।

 

 

ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) দক্ষিণ জোনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে শিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মালামাল চুরি করার উদ্দেশ্যে ৫ থেকে ৬ সদস্যের একটি অস্ত্রধারী চোরচক্র অনুপ্রবেশ করে। ওই সময় সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য শ্রী সজীব রায়, জুয়েল রানা ও জয় শীল তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ধাওয়া দিলে চোরচক্রের সদস্যরা চুরির মালামাল ফেলে চত্বর থেকে চম্পট দেয়।

 

 

তবে ঘটনার এখানেই শেষ হয়নি। পালিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পর চোরচক্রটি সংঘবদ্ধ হয়ে পুনরায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ফিরে আসে। তারা দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে মোটেও বিচলিত না হয়ে আনসার সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে মূল ক্যাম্পে অবস্থানরত সহকর্মীদের দ্রুত বিষয়টি জানান এবং তাৎক্ষণিকভাবে এক সমন্বিত ও ঝটিকা অভিযান শুরু করেন।

 

 

অভিযানের একপর্যায়ে আনসার দলের সদস্যরা ধাওয়া করে চাপাতিসহ চক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. রনি (২২), সাব্বির (২২) ও সালাম (২১)। তবে অভিযানের সময় অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চক্রের অন্য সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আটককৃতদের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত দেশীয় মারাত্মক অস্ত্র (চাপাতি) জব্দ করা হয়েছে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ আসামিদের দ্রুত নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

 

 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই স্থাপনাসমূহে নিরাপত্তা বজায় রাখা, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে সার্বক্ষণিক পেশাদারত্ব এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।