মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। ছবি : সংগৃহীত
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শোন অ্যারেস্ট) নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে দুই দিন জিজ্ঞাসাবাদেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) যুক্তিসঙ্গত শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের প্যানেলের অন্য দুই বিচারক হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে কড়া নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে মোজাফফর হোসেনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। পরবর্তীতে দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে জানান, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এই আসামির ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
শুনানিকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, শাইখ মাহদী এবং মঈনুল করিমসহ অন্যান্য বিচারিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। দীর্ঘ চার দশক পর এই আসামির গ্রেপ্তার ও ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়াকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

















