সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ‘বিজয় ৭১’ ভবন থেকে কামাল উদ্দিন (৪৭) নামের এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (১ জুন) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে অবস্থিত ওই ভবনের অষ্টম তলার একটি টয়লেট থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক বিপর্যস্ততা থেকে সৃষ্ট তীব্র হতাশার কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ ও তাঁর পরিবার।
নিহত কামাল উদ্দিন নেত্রকোনা সদর উপজেলার বড় কাঠুরি গ্রামের মৃত কবির উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ঢাকার আদাবর এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার দুপুর পৌনে ১টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যবর্তী যেকোনো সময়ে ‘বিজয় ৭১’ ভবনের অষ্টম তলার দক্ষিণ পাশের টয়লেটের ভেতরের জানালার গ্রিলের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগান কামাল উদ্দিন। দীর্ঘক্ষণ তাঁকে তাঁর কর্মস্থলে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে টয়লেটের ভেতর তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান অন্য সহকর্মীরা। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা শাখা ও শাহবাগ থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ উদ্ধার করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল আলম বলেন, “প্রাথমিকভাবে নিহতের স্বজন ও সহকর্মীদের মারফত জানা গেছে, কামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সেই অসুস্থতা জনিত হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা কারণ লুকিয়ে আছে, তা আমরা খতিয়ে দেখছি।
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।” সুপ্রিম কোর্টের মতো একটি সংরক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনে ডিউটি চলাকালীন এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সংশ্লিষ্টদের মাঝে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 















