ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গ্রেপ্তার কর্মচারীর স্বীকারোক্তি, প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণ, উত্তাল ক্যাম্পাস

সংগৃহীত ছবি

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আবাসিক হলের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের চেষ্টার অভিযোগে ইমাম হাসান নামে এক ক্যান্টিন কর্মচারীকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে শিক্ষার্থীরা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং ইতিপূর্বে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়। ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরণের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন। একই সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। তালাবদ্ধ থাকায় দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ বা বের হতে পারেননি।

 

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজয় ২৪’ হলের গণরুম-সংলগ্ন ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এক ছাত্রীর গোপনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করে হলেরই ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসান। বিষয়টি টের পেয়ে ওই ছাত্রী চিৎকার করে আতঙ্কিত অবস্থায় সহপাঠীদের জানান। ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই হলের সর্বস্তরের আবাসিক শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং হলের নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় অভিযুক্ত ইমাম হাসানকে আটক করে মারধর করেন। আটকাবস্থায় খবর পেয়ে ইমাম হাসানের স্ত্রী রূপামনি ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সাথে ‘মারমুখী আচরণ’ করেন এবং ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে উভকেই আটক করে হেফাজতে নেয়।

 

 

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, আহত অভিযুক্ত ইমাম হাসানকে পুলিশ প্রহরায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের আদালতে তোলা হলে অভিযুক্ত ইমাম হাসান নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মী নিয়োগ এবং নিরাপত্তাজনিত বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের নিরাপত্তার অজুহাতে নানা বিধিনিষেধ দেওয়া হয়, অথচ নিজেদের হলেই যদি এই অবস্থা হয় তবে নিরাপত্তা কোথায়? পূর্বেও এই কর্মচারীর আচরণ নিয়ে অভিযোগ দেওয়া হলেও হল প্রশাসন কোনো গুরুত্ব দেয়নি।”

 

 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ‘বিজয় ২৪’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিনা আহমেদ জানান, ঘটনার পর পরই সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে এবং হলের কর্মচারীদের প্রাঙ্গণে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে ৩ কর্মদিবসের সময় বেঁধে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, দোষীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

গ্রেপ্তার কর্মচারীর স্বীকারোক্তি, প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণ, উত্তাল ক্যাম্পাস

Update Time : ০৯:৫৫:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আবাসিক হলের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের চেষ্টার অভিযোগে ইমাম হাসান নামে এক ক্যান্টিন কর্মচারীকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে শিক্ষার্থীরা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং ইতিপূর্বে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়। ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরণের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন। একই সঙ্গে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। তালাবদ্ধ থাকায় দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ বা বের হতে পারেননি।

 

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজয় ২৪’ হলের গণরুম-সংলগ্ন ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এক ছাত্রীর গোপনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করে হলেরই ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসান। বিষয়টি টের পেয়ে ওই ছাত্রী চিৎকার করে আতঙ্কিত অবস্থায় সহপাঠীদের জানান। ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই হলের সর্বস্তরের আবাসিক শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং হলের নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় অভিযুক্ত ইমাম হাসানকে আটক করে মারধর করেন। আটকাবস্থায় খবর পেয়ে ইমাম হাসানের স্ত্রী রূপামনি ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সাথে ‘মারমুখী আচরণ’ করেন এবং ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে উভকেই আটক করে হেফাজতে নেয়।

 

 

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, আহত অভিযুক্ত ইমাম হাসানকে পুলিশ প্রহরায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের আদালতে তোলা হলে অভিযুক্ত ইমাম হাসান নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মী নিয়োগ এবং নিরাপত্তাজনিত বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের নিরাপত্তার অজুহাতে নানা বিধিনিষেধ দেওয়া হয়, অথচ নিজেদের হলেই যদি এই অবস্থা হয় তবে নিরাপত্তা কোথায়? পূর্বেও এই কর্মচারীর আচরণ নিয়ে অভিযোগ দেওয়া হলেও হল প্রশাসন কোনো গুরুত্ব দেয়নি।”

 

 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ‘বিজয় ২৪’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিনা আহমেদ জানান, ঘটনার পর পরই সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে এবং হলের কর্মচারীদের প্রাঙ্গণে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে ৩ কর্মদিবসের সময় বেঁধে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, দোষীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।