সংগৃহীত ছবি
ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান তীব্র আন্দোলন ও সহিংসতা ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তির আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সাথে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ঢাকা। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান ভারত পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আমরা এই অঞ্চলে সার্বিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় থাকুক, সেটাই সবসময় প্রত্যাশা করি।”
ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও কলকাতাসহ প্রায় প্রতিটি প্রধান প্রধান রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সাথে মিয়ানমার ও পাকিস্তানের বিদ্যমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে প্রতিবেশি ভারতের এই চরম বিশৃঙ্খলা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য কোনো শঙ্কার কারণ কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে কথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও রাষ্ট্র হিসেবে আমরা আশা করব— ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম গণতন্ত্র। সেই গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে তারা তাদের দেশের জনগণের অবস্থান ও চাওয়াকে সম্মান জানাবে এবং বিদ্যমান সমস্যার দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোবে।”
ভারতের এই অভূতপূর্ব আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছিল গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক বিতর্কিত মন্তব্যের জের ধরে অভিজিৎ দীপ নামের এক তরুণ সমাজকর্মীর নেতৃত্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। আদালতের একটি শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণ ও সমাজকর্মীদের ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই কটূক্তিকে প্রতিবাদের হাতিয়ার বানিয়ে এবং ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সাথে মিলিয়ে ট্রল করে তৈরি করা হয় এই প্ল্যাটফর্মটি। পরবর্তীতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) ও সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ২০ জুন থেকে এই আন্দোলন বিশাল বিক্ষোভের আকার ধারণ করে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে সিজেপির কর্মসূচিতে পুলিশ চড়াও হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
বর্তমানে আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে লাদাখের ৫৯ বছর বয়সী প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক আমরণ অনশন শুরু করেছেন এবং অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ মূলধারার বিরোধী দলগুলো আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করায় বিজেপি সরকারের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী শীর্ষনেতারা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর পর রাজপথ থেকে সংসদ— সর্বত্র চরম উত্তাপ বিরাজ করছে। বলিউড তারকা, সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীরাও এই গণআন্দোলনে সমর্থন দিচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নফাঁসের দ্রুত বিচারের জন্য ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের ঘোষণা দিলেও আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ মিলছে না। ঢাকা নিবিড়ভাবে প্রতিবেশি দেশের এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।















