আটক ব্যক্তি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা বলে দাবি করেছেন। সংগৃহীত ছবি
ভারতের কোনো বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র বা পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে নেপালে প্রবেশের চেষ্টাকালে জর্ডান ব্রাউন নামের এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী আর্মড বর্ডার ফোর্স (এসএসবি)। গ্রেপ্তার হওয়া ৩৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা বলে দাবি করেছেন।
কর্মকর্তারা জানান, গত শনিবার উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায় সোনৌলি থানা এলাকার ৫১৬ নম্বর সীমান্ত স্তম্ভের কাছে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় এসএসবির একটি ব্যাটালিয়ন তাকে থামার সংকেত দেয়। এ সময় তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলে। মহারাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিদ্ধার্থ জানান, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা পরিচয়পত্র ছিল না। তার কাছ থেকে ৩১ হাজার ৪৬০ রুপি এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে ব্রাউন পুলিশকে জানান, তিনি পর্যটক ভিসায় প্রথমে থাইল্যান্ড গিয়েছিলেন এবং সেখানে তার পাসপোর্টটি হারিয়ে ফেলেন। এরপর তিনি সমুদ্রপথে শ্রীলঙ্কা যান এবং সেখান থেকে গত বছরের ২ নভেম্বর সমুদ্রপথেই ভারতে পৌঁছান। ভারত ভ্রমণের বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকলেও তখন থেকে তিনি দীর্ঘ সাত মাস ধরে ভারতের গোয়ায় বসবাস করছিলেন। পরবর্তীতে গোয়া থেকে তিনি প্রথমে বেঙ্গালুরু যান এবং সেখান থেকে নেপালে প্রবেশের উদ্দেশ্যে সোনৌলি সীমান্তে পৌঁছান। এসএসবি ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য সোনৌলি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ তার দাবিগুলো যাচাই করছে এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিক আইনের ২১/২৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে ভিন্ন আরেকটি গুরুতর ঘটনায়, মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী ও ড্রোন যুদ্ধসহ বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) হাতে গ্রেপ্তার পাঁচ ইউক্রেনীয় এবং এক মার্কিন নাগরিককে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে হাজির করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যক্তিরা প্রথমে পর্যটক ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেন এবং পরে মিজোরাম রাজ্য হয়ে মিয়ানমারে যান। সেখানে তারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংস্পর্শে আসেন এবং তাদের যুদ্ধবিদ্যার প্রশিক্ষণ দেন, যা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে তারা বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন এবং এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত চলছে।















