সংগৃহীত ছবি
বিএনপি সরকার দেশের মানুষের হাতে বিদ্যুতের বদলে হারিকেন ও মোমবাতি তুলে দিয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনসিপি’র দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। বর্তমান দেশের চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আগে মানুষের বাড়িতে বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে যেত, আর এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে বিদ্যুৎই মাঝে মাঝে আসে।”
শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে এনসিপি আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে নোয়াখালী জেলা এনসিপি এই বিক্ষোভ পদযাত্রার আয়োজন করে।
সমাবেশে বিদ্যুৎমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “বিদ্যুৎমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে দাবি করেন দেশে নাকি কোনো লোডশেডিং নেই। কিন্তু তিনি যদি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ছেড়ে জনগণের মাঝে আসতেন, তবে বুঝতে পারতেন যে দেশের অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না।” তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের দূরদর্শিতার অভাব ও ভুল নীতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষ তীব্র গরমে ও অন্ধকারে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য। বিগত নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল ‘মিডনাইট ইলেকশন’। তখন ভোটের ফল প্রকাশের আগেই কারচুপি ও ভোট চুরি করা হয়েছিল। কিন্তু এবার আমরা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি মেকানিজম দেখলাম। এবারও ভোট চুরি হয়েছে, তবে সেটা হয়েছে ফল প্রকাশের পরে।”
তিনি দাবি করেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সেই জনগণের রায়কে অবলীলায় চুরি করে নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “জুলাই আন্দোলনের আগেও ভোট চুরি ছিল, যা হতো ফল প্রকাশের আগে। আর জুলাইয়ের পরেও দেশে ভোট চুরি বহাল রয়েছে, যা করা হলো দিনের আলোতে ফল প্রকাশের পরে।”
নতুন প্রজন্ম ও তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষাকে অবমূল্যায়ন না করার জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এই এনসিপি নেতা। তিনি বলেন, “তরুণ প্রজন্মের বিপক্ষে গিয়ে দেশ পরিচালনা করা কিংবা কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্কার করা সম্ভব নয়। আপনারা যদি ভেবে থাকেন যে সাধারণ জনগণ ও যুবসমাজকে বাইরে রেখে নিজেদের মতো সংস্কার করবেন, তবে আপনারা চরম ভুলের মধ্যে আছেন।”
দেশের বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “নির্বাচনের আগে বড় বড় গলায় এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সরকার গঠনের পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও যুবসমাজের জন্য একটি নতুন কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করা হয়নি। এমনকি সরকারি-বেসরকারি কোনো খাতে নতুন কোনো বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও চোখে পড়ছে না।” সমাবেশ শেষে একটি বিশাল পদযাত্রা মাইজদী শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
















