অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ফাইল ছবি
দেশের চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের মধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি অত্যন্ত রহস্যময় ও সতর্কতামূলক পোস্ট শেয়ার করেছেন। পোস্টে তিনি সব ধরনের অভ্যন্তরীণ ও ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত এড়িয়ে দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান। আজ শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এই দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি নিজেকে ‘প্রথম বলির পাঁঠা বা টার্গেট’ হতে পারেন বলে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন। একই সাথে তিনি দেশের দায়িত্বশীল মহলকে সতর্ক করে বলেন, একে একে আরও অনেকেই এই অদৃশ্য শক্তির লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।
পোস্টের শুরুতেই এক তীব্র সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম লেখেন, “আমি প্রথম বলির পাঁঠা বা টার্গেট হতে পারি, কিন্তু শেষ নই। একে একে আপনাদের সবাইকে টার্গেট করা হবে। এর পরিণতি আপনারা সামাল দিতে পারবেন না।” তাঁর এই আকস্মিক ও নাটকীয় মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অন্তরালে কোনো বড় ধরনের সংকট বা ষড়যন্ত্রের আভাস পেয়েই তিনি হয়তো এমন মন্তব্য করেছেন।
নিজের বক্তব্যের গভীরতা বোঝাতে তিনি আরও যোগ করেন, “শত্রুর সেবা করে কেউ বলির পাঁঠা হবেন না। বলির পাঁঠাদের শেষ পর্যন্ত উৎসর্গ করা হয়। সব ধরনের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত এড়িয়ে চলুন। সর্বোচ্চ ঐক্যের লক্ষ্যে কাজ করুন।” পোস্টে তিনি বিখ্যাত জার্মান-আমেরিকান প্রযুক্তি উদ্যোক্তা পিটার থিয়েলের একটি দার্শনিক উদ্ধৃতিও উল্লেখ করেন। সেই উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সম্ভবত প্রতিটি আধুনিক রাজাই এমন এক বলির পাঁঠা, যে কেবল নিজের মৃত্যুদণ্ড কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দিতে পেরেছে।’ একই সঙ্গে তিনি বলির পাঁঠা বা ‘স্কেপগোট’ ধারণার মনস্তাত্ত্বিক রূপ বুঝতে বিখ্যাত ফরাসি দার্শনিক রেনে জিরারের (René Girard) বই পড়ার জন্যও পাঠকদের পরামর্শ দেন।
তবে নিজের এই দীর্ঘ ও রহস্যে ঘেরা পোস্টে মাহফুজ আলম সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, রাজনৈতিক দল কিংবা বিশেষ কোনো ঘটনার নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি। ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে বা কী ধরনের গোপন চাপের মুখে পড়ে তিনি এমন চরম ও আশঙ্কাজনক মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়েও তিনি ধোঁয়াশা রেখে গেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম এই গুরুত্বপূর্ণ চেহারার এমন পোস্টের পর নেটিজেন এবং রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—ঠিক কার বা কোন শক্তির দিকে ইঙ্গিত করলেন মাহফুজ আলম?

অনলাইন ডেস্ক 














