ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সুসংবাদ: দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস

সুস্থতার পথে মির্জা আব্বাস: মালয়েশিয়ায় চলছে রোবোটিক থেরাপি

সংগৃহীত ছবি

 

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত (স্ট্রোক) গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তারেক রহমানের উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস এখন পরিপূর্ণ সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। শারীরিক জটিলতার কারণে সাময়িকভাবে তার ডান হাত ও পা অবশ হয়ে গেলেও চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার শারীরিক অবস্থার লক্ষণীয় উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তার অবশ হয়ে যাওয়া ডান পায়ের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে মালয়েশিয়ার একটি অত্যাধুনিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রতিদিন নিয়মিত ফিজিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে।

 

 

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান দলের এই সিনিয়র নেতার সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

 

 

মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাসের বরাত দিয়ে শায়রুল কবির জানান, চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মির্জা আব্বাসের হাতের অবস্থার অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। তবে পায়ের স্বাভাবিক নাড়াচাড়া ও শক্তি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বিশ্বমানের বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র ‘পুসাট রিহ্যাবিলিটাসি নিউরো-রোবোটিক এবং সাইবারনিক্স কেবাংসান পারকেসো’ (Pusat Rehabilitasi Neuro-Robotic dan Cybernics Kebangsaan PERKESO)-তে চিকিৎসাধীন। সেখানে তাকে প্রতিদিন আধুনিক রোবোটিক ও সাইবারনিক্স প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষায়িত নিউরো-থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।

 

 

পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার সকালেও যথারীতি তার থেরাপি সম্পন্ন হয়েছে। থেরাপি সেশন শেষ হওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শ ও অনুমতি নিয়ে তিনি হাসপাতালের উন্মুক্ত চত্বরে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটাচলাও করেছেন। এই পুরো সময়টাতে তার পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন তার সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস।

 

 

এর আগে গত ১৬ মে কুয়ালালামপুরের প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আফরোজা আব্বাস জানিয়েছিলেন, তাদের পরিবার একটি অত্যন্ত কঠিন ও সংকটাপন্ন সময় পার করে এসেছে। মির্জা আব্বাসের নিউরো-সংক্রান্ত (স্নায়ুতাত্ত্বিক) অত্যন্ত জটিল ও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল, যা আল্লাহর রহমতে এবং চিকিৎসকদের সুচিকিৎসায় এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর থেকেই এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ দেশে ফেরার জন্য প্রচণ্ড ব্যাকুল হয়ে আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ পবিত্র রমজান মাসের ইফতার সামগ্রী গ্রহণের সময় হঠাৎ তীব্র অসুস্থতা বোধ করেন মির্জা আব্বাস। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওই রাতেই তাকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (Brain Hemorrhage) শনাক্ত করেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই নেতার মস্তিষ্কে এভারকেয়ার হাসপাতালেই জরুরি ভিত্তিতে দুই দফায় অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচার (Surgery) করা হয়।

 

পরবর্তীতে দেশের চিকিৎসকদের পরামর্শে ও উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে প্রথমে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক ধাপের চিকিৎসা শেষে স্নায়ু ও পেশির বিশেষায়িত পুনর্বাসন (Rehabilitation) এবং রোবোটিক থেরাপির জন্য তাকে মালয়েশিয়ার এই বিখ্যাত সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। মির্জা আব্বাসের পরিবার তার সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

v

 

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

সুসংবাদ: দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস

সুস্থতার পথে মির্জা আব্বাস: মালয়েশিয়ায় চলছে রোবোটিক থেরাপি

Update Time : ১০:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত (স্ট্রোক) গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তারেক রহমানের উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস এখন পরিপূর্ণ সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। শারীরিক জটিলতার কারণে সাময়িকভাবে তার ডান হাত ও পা অবশ হয়ে গেলেও চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তার শারীরিক অবস্থার লক্ষণীয় উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তার অবশ হয়ে যাওয়া ডান পায়ের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে মালয়েশিয়ার একটি অত্যাধুনিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রতিদিন নিয়মিত ফিজিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে।

 

 

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান দলের এই সিনিয়র নেতার সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

 

 

মির্জা আব্বাসের সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাসের বরাত দিয়ে শায়রুল কবির জানান, চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মির্জা আব্বাসের হাতের অবস্থার অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। তবে পায়ের স্বাভাবিক নাড়াচাড়া ও শক্তি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বিশ্বমানের বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র ‘পুসাট রিহ্যাবিলিটাসি নিউরো-রোবোটিক এবং সাইবারনিক্স কেবাংসান পারকেসো’ (Pusat Rehabilitasi Neuro-Robotic dan Cybernics Kebangsaan PERKESO)-তে চিকিৎসাধীন। সেখানে তাকে প্রতিদিন আধুনিক রোবোটিক ও সাইবারনিক্স প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষায়িত নিউরো-থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।

 

 

পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার সকালেও যথারীতি তার থেরাপি সম্পন্ন হয়েছে। থেরাপি সেশন শেষ হওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শ ও অনুমতি নিয়ে তিনি হাসপাতালের উন্মুক্ত চত্বরে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটাচলাও করেছেন। এই পুরো সময়টাতে তার পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন তার সহধর্মিণী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস।

 

 

এর আগে গত ১৬ মে কুয়ালালামপুরের প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আফরোজা আব্বাস জানিয়েছিলেন, তাদের পরিবার একটি অত্যন্ত কঠিন ও সংকটাপন্ন সময় পার করে এসেছে। মির্জা আব্বাসের নিউরো-সংক্রান্ত (স্নায়ুতাত্ত্বিক) অত্যন্ত জটিল ও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছিল, যা আল্লাহর রহমতে এবং চিকিৎসকদের সুচিকিৎসায় এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর থেকেই এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ দেশে ফেরার জন্য প্রচণ্ড ব্যাকুল হয়ে আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

 

 

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ পবিত্র রমজান মাসের ইফতার সামগ্রী গ্রহণের সময় হঠাৎ তীব্র অসুস্থতা বোধ করেন মির্জা আব্বাস। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওই রাতেই তাকে দ্রুত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (Brain Hemorrhage) শনাক্ত করেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই নেতার মস্তিষ্কে এভারকেয়ার হাসপাতালেই জরুরি ভিত্তিতে দুই দফায় অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচার (Surgery) করা হয়।

 

পরবর্তীতে দেশের চিকিৎসকদের পরামর্শে ও উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে প্রথমে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক ধাপের চিকিৎসা শেষে স্নায়ু ও পেশির বিশেষায়িত পুনর্বাসন (Rehabilitation) এবং রোবোটিক থেরাপির জন্য তাকে মালয়েশিয়ার এই বিখ্যাত সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। মির্জা আব্বাসের পরিবার তার সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

v