ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন: রাজধানীতে মামলার মহোৎসব ডিএমপির

ডিএমপির বিশেষ অভিযান: ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে তুলকালাম

সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে বড় ধরনের এক অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। সোমবার (২৯ জুন) দিনভর ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও এলাকায় একযোগে চালানো এই বিশেষ অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করার দায়ে মোট ২ হাজার ২৯৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে আইন অমান্য করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি থাকায় বিপুল সংখ্যক যানবাহন জব্দ ও ডাম্পিং করা হয়।রাজধানীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে বড় ধরনের এক অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।

 

 

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শুধু ব্যবস্থাপনামূলক মামলাই দেওয়া হয়নি, বরং তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবৈধভাবে পার্কিং করা যানবাহন অপসারণে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরো অভিযান চলাকালে ট্রাফিক আইন ভাঙার অপরাধে মোট ৫১০টি গাড়ি ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে এবং ৩৪৩টি গাড়িকে রেকার করে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।

 

 

ট্রাফিক বিভাগের জোনভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মামলার শিকার হয়েছে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগ। এই জোনে সর্বোচ্চ ৫২৩টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩টি বাস, ৬টি ট্রাক, ২৩টি কাভার্ডভ্যান, ৮৪টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং সবচেয়ে বেশি ৩২৭টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মামলা হয়েছে ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে। দেশের প্রধান এই বাণিজ্যিক এলাকায় মোট ৪২২টি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে ২১৪টি মোটরসাইকেল ও ৯৬টি সিএনজি রয়েছে।

 

 

এদিকে ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগেও আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি ছিল। সেখানে মোট ৩৭৫টি মামলার মধ্যে ২৭টি বাস এবং ১৪৫টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ২৭০টি এবং ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ২২৪টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। লালবাগ জোনে ১২৪টি মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ১৭টি বাস ও ১৪টি ট্রাক চালককে জরিমানার আওতায় আনা হয়।

পুরো রাজধানীর মধ্যে তুলনামূলক কম মামলা হয়েছে ট্রাফিক-রমনা বিভাগে। সেখানে ১০৭টি মামলার বিপরীতে ১০টি বাস, ১টি ট্রাক, ৫টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি ও ৩৪টি মোটরসাইকেল আটকানো হয়। এছাড়া ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ১৬৯টি মামলা এবং গুলশান

বিভাগে ২০৪টি মামলা করা হয়েছে। গুলশানে কোনো ট্রাকের বিরুদ্ধে মামলা না হলেও ২৯টি বাস ও ৬০টি মোটরসাইকেলের চালককে ট্রাফিক বিধি লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। ডিএমপি জানায়, সড়কে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এই ধরণের কঠোর অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন: রাজধানীতে মামলার মহোৎসব ডিএমপির

ডিএমপির বিশেষ অভিযান: ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে তুলকালাম

Update Time : ১০:২৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

রাজধানীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে বড় ধরনের এক অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। সোমবার (২৯ জুন) দিনভর ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও এলাকায় একযোগে চালানো এই বিশেষ অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করার দায়ে মোট ২ হাজার ২৯৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সাথে আইন অমান্য করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি থাকায় বিপুল সংখ্যক যানবাহন জব্দ ও ডাম্পিং করা হয়।রাজধানীর সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে বড় ধরনের এক অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।

 

 

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ট্রাফিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শুধু ব্যবস্থাপনামূলক মামলাই দেওয়া হয়নি, বরং তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবৈধভাবে পার্কিং করা যানবাহন অপসারণে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরো অভিযান চলাকালে ট্রাফিক আইন ভাঙার অপরাধে মোট ৫১০টি গাড়ি ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে এবং ৩৪৩টি গাড়িকে রেকার করে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে।

 

 

ট্রাফিক বিভাগের জোনভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মামলার শিকার হয়েছে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগ। এই জোনে সর্বোচ্চ ৫২৩টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩টি বাস, ৬টি ট্রাক, ২৩টি কাভার্ডভ্যান, ৮৪টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং সবচেয়ে বেশি ৩২৭টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মামলা হয়েছে ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে। দেশের প্রধান এই বাণিজ্যিক এলাকায় মোট ৪২২টি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে ২১৪টি মোটরসাইকেল ও ৯৬টি সিএনজি রয়েছে।

 

 

এদিকে ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগেও আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি ছিল। সেখানে মোট ৩৭৫টি মামলার মধ্যে ২৭টি বাস এবং ১৪৫টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ২৭০টি এবং ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ২২৪টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। লালবাগ জোনে ১২৪টি মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ১৭টি বাস ও ১৪টি ট্রাক চালককে জরিমানার আওতায় আনা হয়।

পুরো রাজধানীর মধ্যে তুলনামূলক কম মামলা হয়েছে ট্রাফিক-রমনা বিভাগে। সেখানে ১০৭টি মামলার বিপরীতে ১০টি বাস, ১টি ট্রাক, ৫টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি ও ৩৪টি মোটরসাইকেল আটকানো হয়। এছাড়া ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ১৬৯টি মামলা এবং গুলশান

বিভাগে ২০৪টি মামলা করা হয়েছে। গুলশানে কোনো ট্রাকের বিরুদ্ধে মামলা না হলেও ২৯টি বাস ও ৬০টি মোটরসাইকেলের চালককে ট্রাফিক বিধি লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। ডিএমপি জানায়, সড়কে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যানজট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এই ধরণের কঠোর অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।